বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আনাগোনা আর চিরচেনা হট্টগোলের মাঝে নিঃশব্দে পা রাখলেন বিশ্বজয়ী জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে তুর্কি সাহায্য সংস্থা ‘টিকা’র অর্থায়নে আধুনিকায়ন করা একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন আর্সেনালের এই সাবেক তারকা। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে মোড়ানো এই সংক্ষিপ্ত সফরে তার সাথে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ছেলে বিলাল এরদোগান। মূলত উন্নয়নমূলক কূটনীতি আর মানবিক সহায়তার এক বিশেষ বার্তা নিয়ে ওজিলের এই বাংলাদেশ সফর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মেডিকেল সেন্টারটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অনেকটা অকেজো হয়ে পড়ে ছিল, সেখানে এখন আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। তুরস্কের উন্নয়ন ও সমন্বয় সংস্থা ‘টিকা’-এর প্রায় ২.৭৫ কোটি টাকার অনুদানে সেন্টারটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ওজিলের উপস্থিতি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন সহযোগিতার চিত্রটিকেই যেন আরও স্পষ্ট করে তুলল। প্রতিনিধিদলটির এই পুরো সফরটিই তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (RRRC) এবং তুর্কি সংস্থা ‘টিকা’।
এই সফরের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল কঠোর গোপনীয়তা, যা নিয়ে জনমনে কিছুটা কৌতূহলও তৈরি হয়েছিল। তবে এর পেছনে থাকা যুক্তিসঙ্গত কারণটি পরিষ্কার করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ‘আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের উদ্বোধন হলো, যা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিল। টিকা’র সৌজন্যে প্রায় তিন কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এখানে। নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা সফরটি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন, আর তাই আমরা আগে থেকে কোনো ঘোষণা দিইনি।’ এই সতর্কতার কারণে হয়তো সাধারণ ভক্তরা প্রিয় তারকাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি, তবে এতে করে মূল লক্ষ্য তথা প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ওপর গুরুত্ব বজায় ছিল।
আড্ডার ছলে অবধারিতভাবেই উঠেছিল ফুটবলের প্রসঙ্গ। বাংলাদেশে ওজিলের যে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে ফুটবল জাদুকর বেশ আগ্রহ দেখান। সাদিক কায়েমের ভাষায়, ‘আমরা তাকে বলেছি যে বাংলাদেশে তার বিশাল ফ্যানবেজ রয়েছে। ফুটবল নিয়ে যদি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং প্রতিভা লালন করা যায়, তবে আমাদের ফুটবলের মানও এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।’ যদিও কোনো বড় ঘোষণার পথে হাঁটেননি ওজিল, তবে সম্পর্কের একটি নতুন দুয়ার যে খুলেছে তা স্পষ্ট।
তবে ঢাকার এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার ওজিলের গন্তব্য কক্সবাজার। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শরণার্থী পরিবারের সঙ্গে প্রথম ইফতারে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে আরআরআরসি কার্যালয়ে তিনি ব্রিফিংয়েও অংশ নেবেন। মূলত রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক মানবিক সহায়তায় সোচ্চার।
২০২১ সালেও ওজিল ব্যক্তিগতভাবে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছিলেন যেখানে একটি অংশ ব্যয় হয় রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য সহায়তার উদ্দেশ্যে। সেই পুরোনো সংহতিকেই এবার সশরীরে উপস্থিত থেকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছেন এই ফুটবল মহাতারকা। প্রায় এক দশক ধরে ১০ লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টাকে এই সফরের মাধ্যমে ওজিল ও তার প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিকভাবে কুর্নিশ জানাবেন।


