দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। সেটি হলো- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত ‘ফেস্টিভ্যাল সিনেমা’ মানেই তা মন্থর গতির, বিষণ্ন এবং সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে। তবে পরিহাসের বিষয় হলো, ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রটি নিজেই এ বছরের অন্যতম বড় একটি ফেস্টিভ্যাল ফিল্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর প্রেক্ষাপট কান বা ভেনিসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চ না হলেও, এটি নির্মাণ ও বাজারজাত করা হয়েছে দেশের প্রধান উৎসব ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে।
একটি চলচ্চিত্রের সার্থকতা যদি উৎসব পরবর্তী সময়ে দর্শকের হৃদয়ে টিকে থাকার সক্ষমতা দিয়ে বিচার করা হয়, তবে ‘রকস্টার’ একটি মৌলিক জিজ্ঞাসা রেখে যায়- উৎসবের উন্মাদনা আর করতালি শেষে এই সৃষ্টি থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষের স্মৃতিতে কী অবশিষ্ট থাকবে?
আজমান রুশোর নির্দেশনা ও অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুর প্রযোজনায় নির্মিত ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রটি প্রথম দর্শনেই সমকালীন মূলধারার সিনেমার যাবতীয় বাণিজ্যিক অনুষঙ্গ নিয়ে হাজির হয়। ওস্তাদ জুনায়েদের (তারিক আনাম খান) উত্তরসূরি আগুন (শাকিব খান) শাস্ত্রীয় সংগীতের পারিবারিক ঐতিহ্য অস্বীকার করে বেছে নেন ড্রামস আর গিটারের বিদ্রোহী সুর। তার এই আকস্মিক উত্থান তাকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে গেলেও গল্পের বাঁকে বাঁকে মীরার (সাবিলা নূর) সঙ্গে প্রেম, মাদকের নীল দংশন আর যন্ত্রণাকাতর একাকীত্বের আখ্যান ফুটে ওঠে। কাগজে-কলমে খ্যাতি আর শিল্পীসত্তার এই দ্বন্দ্বটি যথেষ্ট উচ্চাভিলাষী মনে হলেও, পর্দায় তা নতুন কোনো শিল্পবোধ তৈরির চেয়ে চেনা নাটকীয় উপাদানগুলোর এক নিপুণ সংকলন হিসেবেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
চলচ্চিত্রটির সীমাবদ্ধতা এর প্রতিভার ঘাটতি থেকে নয়, বরং এর প্রয়োগশৈলী থেকে উদ্ভূত। কারিগরি দিক থেকে ‘রকস্টার’ বেশ শক্তিশালী। আবদুল মামুনের নিপুণ চিত্রগ্রহণ এবং কনসার্টের দৃশ্যগুলোতে আলোর আধুনিক ব্যবহার বাংলা মূলধারার চলচ্চিত্রে এক নতুন আবহ তৈরি করেছে। পরিচালক আজমান রুশো ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, বিশেষ করে নায়ক আগুনের সুপারস্টার হয়ে ওঠার মুহূর্তগুলো বেশ আকর্ষণীয়। দীর্ঘ সময় অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের পর শাকিব খান এখানে নিজেকে ভেঙে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা প্রশংসার যোগ্য। সাবিলা নূর তার মীরা চরিত্রে আন্তরিক ছিলেন এবং তানজিয়া মিথিলা, তারিক আনাম খান ও দিলারা জামানের মতো অভিজ্ঞ শিল্পীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল থাকলেও চিত্রনাট্য তাদের বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রাখেনি।
কাহিনীর অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রের কাঠামোগত ত্রুটিগুলো প্রকট হয়ে ধরা দেয়। ছবিটির অন্যতম প্রধান ব্যর্থতা হলো—এটি আগুন চরিত্রটিকে স্রেফ বাহ্যিক পরিস্থিতির আবর্তে বন্দী রেখেছে, তার মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা উন্মোচনে সমর্থ হয়নি। নুসরাতের মাটির চিত্রনাট্যে সৃজনশীলতার কিছু ঝলক থাকলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি। অন্যদিকে, আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়ার সংলাপে আবেগের উপস্থিতি থাকলেও তা ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ—কখনো তা স্পর্শকাতর, আবার কখনো অত্যন্ত দুর্বল, যা সিনেমার মূল সুরকে সুসংহত করতে বাধা দিয়েছে। এই অসংগতির নেপথ্যে সময়ের স্বল্পতা নাকি প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট সীমাবদ্ধতা দায়ী ছিল, তা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও এটি পরিষ্কার যে, চিত্রনাট্যটি আরও ঘষামাজার জন্য পর্যাপ্ত সময়ের দাবি রাখত।

পর্দায় আগুনের মহাতারকা হয়ে ওঠার বিবর্তনটি খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি পায়নি। ভক্তদের উন্মাদনা প্রদর্শিত হলেও, একজন সাধারণ মানুষ থেকে কিংবদন্তি হওয়ার যে বন্ধুর ও দীর্ঘ পথযাত্রা, তা দর্শক সেভাবে নিজের ভেতরে ধারণ করতে পারে না। যেহেতু ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রের পুরো আবেগিক কাঠামো আগুনের শিল্পীসত্তার মহত্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তাই তার সাফল্যের সেই গভীরতা অনুভব করতে না পারায় তার ট্র্যাজিক পতনও দর্শকদের হৃদয়ে কাঙ্ক্ষিত দাগ কাটতে ব্যর্থ হয়।
একটি মিউজিক্যাল ড্রামা হিসেবে রকস্টারের অন্যতম প্রধান সার্থকতা হওয়ার কথা ছিল এর গানগুলোর মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে মনপুরা তার অন্যতম বড় উদাহরণ। গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত মনপুরা মূলত একটি মিউজিক্যাল চলচ্চিত্র ছিল না, কিন্তু এর গানগুলো সিনেমা মুক্তির আগেই মানুষের মুখে মুখে ফিরেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারহীন সেই সময়েও ক্যাসেট, টেলিভিশন এবং মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গানগুলো চলচ্চিত্রটির প্রতি দর্শকের আবেগ তৈরি করেছিল। ফলে দর্শক যখন সিনেমা হলে প্রবেশ করেছে, তখন গল্পের চরিত্র ও আবহের সঙ্গে তাদের একটি পূর্ব-প্রতিষ্ঠিত আবেগিক সংযোগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

রকস্টারের ক্ষেত্রে সেই শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ভিত্তি তৈরি হতে দেখা যায় না। চলচ্চিত্রটি বারবার আমাদের বলে যে আগুন (শাকিব খান) একজন আইকনিক সংগীতশিল্পী, কিন্তু তার গানগুলো খুব কম ক্ষেত্রেই সেই বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে। একজন রকস্টারের উত্থানকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হলে তার সৃষ্ট সংগীতকেও দর্শকের স্মৃতিতে বেঁচে থাকতে হয়। কারণ অনেক সময় কাহিনির দুর্বলতা দর্শক ক্ষমা করে দিতে পারে, যদি সংগীত তাদের আবেগের ভেতর জায়গা করে নেয়।
কিন্তু রকস্টারের গানগুলো খুব কমই সেই দীর্ঘস্থায়ী আবেগ তৈরি করতে পেরেছে। ফলে আগুনের তারকাখ্যাতি যেমন পুরোপুরি অনুভূত হয় না, তেমনি চলচ্চিত্রটিও একটি পূর্ণাঙ্গ মিউজিক্যাল ড্রামা হিসেবে নিজের কাঙ্ক্ষিত প্রভাব তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। বরং অনেক সময় এটি একজন সংগীতশিল্পীর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি পারিবারিক বা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবেই বেশি প্রতিভাত হয়।
এই বিন্দুতে এসে আলোচনাটি স্রেফ একটি পাণ্ডুলিপির গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের সামগ্রিক সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মৌলিক সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে। নুসরাত মাটির লেখনীতে সম্ভাবনাময় কিছু চিত্রকল্পের উপস্থিতি থাকলেও, বর্ণনার গভীরে প্রবেশ করে সেই সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দেওয়ার অবকাশ ছিল যৎসামান্য। আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়ার সংলাপে আবেগের ছোঁয়া মাঝেমধ্যে দৃশ্যমান হলেও, তা পুরো আখ্যানে একীভূত কোনো সুর বা মেজাজ তৈরি করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কিছু শব্দচয়ন যেখানে স্বাভাবিক ও জীবনঘনিষ্ঠ ঠেকেছে, ঠিক তার বিপরীতে কিছু পঙক্তি আবার চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে আলগা করে দিয়েছে। চিত্রনাট্য ও সংলাপের এই অসামঞ্জস্যের পেছনে অপ্রতুল প্রস্তুতি, তারকাকেন্দ্রিক নির্মাণের চাপ নাকি প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট কোনো সংঘাত দায়ী ছিল—তা স্পষ্ট না হলেও একটি সত্য বারবার প্রতিভাত হয় যে সৃজনশীল এই প্রয়াসটি যদি আরও কিছুটা সময় ও ঘষামাজার সুযোগ পেত, তবে হয়ত তা স্রেফ একটি প্যাকেজ না হয়ে সত্যিকারের একটি শিল্পকর্মে রূপ নিতে পারত।

আগুনের মহাতারকা হয়ে ওঠার বিবর্তনটি খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি পায় না। পর্দায় আমরা স্রেফ কিছু খণ্ডচিত্র দেখি কিংবা মানুষের উন্মাদনা শুনি, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ থেকে কিংবদন্তি হওয়ার যে বন্ধুর ও দীর্ঘ পথযাত্রা, তা দর্শক সেভাবে নিজের ভেতরে ধারণ করতে পারে না। যেহেতু ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রের পুরো আবেগিক কাঠামো আগুনের শিল্পীসত্তার মহত্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তাই তার সাফল্যের সেই গভীরতা অনুভব করতে না পারায় তার ট্র্যাজিক পতনও দর্শকদের হৃদয়ে কাঙ্ক্ষিত দাগ কাটতে ব্যর্থ হয়।
মাদকাসক্তির বিষয়টিও চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। আগুনের যাত্রার বড় অংশই আত্মবিধ্বংসী আচরণ, ব্যক্তিগত সংকট এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত। যদিও চলচ্চিত্রটি স্পষ্টভাবে এই জীবনধারাকে সতর্কবার্তা হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে, তবুও বারবার একই ধরনের দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আড়াল করে দেয়। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন জাগে—রকস্টার আসলে কী বলতে চায়? এটি কি একজন শিল্পীর আত্মপ্রতিষ্ঠার গল্প, খ্যাতির মূল্য, ভালোবাসার ভঙ্গুরতা, নাকি মাদকের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের গল্প? চলচ্চিত্রটি এসব বিষয়ই স্পর্শ করে, কিন্তু কোনো একটিকে পুরোপুরি কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে না। একই সঙ্গে আরেকটি বিষয়ও আলোচনার দাবি রাখে। যখন কোনো জনপ্রিয় নায়কের চরিত্রকে দীর্ঘ সময় ধরে মাদকসেবন, আত্মবিধ্বংসী আচরণ এবং নেশাগ্রস্ত জীবনযাপনের মধ্যে দেখানো হয়, তখন নির্মাতার উদ্দেশ্য সতর্ক করা হলেও পর্দায় সেই উপস্থাপনাটি অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে এক ধরনের নায়কোচিত রোমান্টিসিজম তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ দর্শকদের জন্য এটি সংবেদনশীল একটি বিষয়। সেই বিবেচনায়, চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের কাছ থেকে ‘সার্বজনীন’ (ইউ) সনদ পাওয়াও প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশ্বের অনেক দেশেই বর্তমানে মাদক ও নেশাজাতীয় পদার্থের ব্যবহার পর্দায় কীভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, তা বয়সভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। কারণ বিষয়টি শুধু গল্পের অংশ নয়, দর্শকের গ্রহণ ও অনুকরণের সম্ভাবনার সঙ্গেও জড়িত। রকস্টার হয়ত মাদকের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দিতে চেয়েছে, কিন্তু তার উপস্থাপনা এবং সার্বজনীন প্রদর্শনের অনুমোদন নিয়ে আলোচনা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
‘রকস্টার’-এর মূল্যায়ন শাকিব খানের বর্তমান ক্যারিয়ার গ্রাফের প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ‘প্রিয়তমা’ থেকে শুরু করে ‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’ ও ‘প্রিন্স’-এর ধারাবাহিকতায় ‘রকস্টার’ চলচ্চিত্রটিকেও তার এক নতুন পথচলা হিসেবেই ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। এই বিবর্তনে উপস্থাপনা, জনরা ও শাকিব খানের চরিত্রের ধরন বদলেছে—যা অনেকাংশেই সত্য। তবে এই চলচ্চিত্রটি একটি মৌলিক সংশয় জাগিয়ে দেয়- দৃশ্যপটের পরিবর্তনের সঙ্গে গল্প বলার কাঠামো কি আদৌ সমান্তরালভাবে আধুনিক হতে পেরেছে?

বর্তমানের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রগুলো সাধারণত ট্র্যাজিক অতীত, হুট করে আসা সাফল্য, আবেগপ্রবণ প্রেম, মাদক আর ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মতো চেনা ছকগুলোতেই আবদ্ধ থাকে। এই উপাদানগুলো ব্যবহার করে কালজয়ী সিনেমা হওয়া সম্ভব হলেও প্রধান অন্তরায় হলো সেগুলোর পুনরাবৃত্তিমূলক প্রয়োগ। ‘রকস্টার’ এই গতানুগতিক উপাদানগুলোকে নতুন কোনো উচ্চতায় নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দর্শক একে একটি ভিন্নধর্মী সৃষ্টির বদলে পুরনো ও চেনা ধারণার একটি জাঁকজমকপূর্ণ উপস্থাপনা হিসেবেই দেখতে পান।
এখানেই আলোচনাটি একটি চলচ্চিত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো শিল্পের দিকে যায়। রকস্টার দেখতে দেখতে মনে হয়, আমরা হয়ত নতুন গল্প খোঁজার চেয়ে নতুন প্যাকেজ তৈরি করতেই বেশি স্বস্তি বোধ করছি। তারকা, বিপণন, মুক্তির কৌশল, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কিংবা প্রথম সপ্তাহের আয় নিয়ে যত আলোচনা হয়, চরিত্র নির্মাণ, গানের বিকাশ, বিষয়বস্তুর গভীরতা কিংবা গল্পকে পরিপক্ব হওয়ার জন্য সময় দেওয়া নিয়ে ততটা আলোচনা হয় না। ফলে চলচ্চিত্রগুলো আকারে বড় হচ্ছে, কিন্তু সব সময় গভীরতায় নয়।
তবে এসব আলোচনাকে চলচ্চিত্রটির পাইরেসি সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত হবে না। একটি চলচ্চিত্র সমালোচনার যোগ্য হলে সমালোচনা হবে, আবার একই সঙ্গে সেটি সুরক্ষারও যোগ্য। পাইরেসি নির্মাতা, প্রযুক্তিকর্মী, পরিবেশক, প্রদর্শক এবং ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র—সবকিছুর জন্যই ক্ষতিকর।
ষাট বছরেরও বেশি সময় পর আজও মানুষ সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’-এর অরিন্দম মুখার্জিকে মনে রাখে। শুধু তিনি একজন তারকা ছিলেন বলে নয়, তিনি একজন মানুষ বলে মনে হয়েছিল। সেখানেই হয়ত প্রতিটি প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারকা দর্শক টানতে পারেন। বিপণন কৌতূহল তৈরি করতে পারে। উৎসব গতি এনে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে চরিত্রই।
মজার বিষয় হলো, রকস্টার নিজেই তার সীমাবদ্ধতার সবচেয়ে সুন্দর রূপকটি আমাদের সামনে হাজির করে। চলচ্চিত্রের এক পর্যায়ে আগুন গর্ব করে বলে, সে মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে নিয়েছে। কিন্তু সমস্যাটি হলো, রকস্টার তার নায়কের হাতে অস্ত্র বদলাতে পারলেও, তার চারপাশের গল্প বলার কাঠামোটি পুরোপুরি বদলাতে পারেনি।
চলচ্চিত্র: রকস্টার (২০২৬)
পরিচালনা ও গল্প: আজমান রুশো
প্রযোজক: অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু
চিত্রনাট্য: নুসরাত মাটি
সংলাপ: আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়া
অভিনয়: শাকিব খান (আগুন), সাবিলা নূর (মীরা), তানজিয়া জামান মিথিলা (এলেনা), তারিক আনাম খান (ওস্তাদ জুনায়েদ), দিলারা জামান (দাদি), কাজী সাবির (আসলাম), সুনিধি নায়েক, রোজী সিদ্দিকী
চিত্রগ্রহণ: আবদুল মামুন
সংগীত: আহমেদ হাসান সানি ও জাহিদ নিরব
মুক্তি: ২৮ মে ২০২৬ (বাংলাদেশ)/৫ জুন ২০২৬ (আন্তর্জাতিক)
লেখক: আবু শাহেদ ইমন (চলচ্চিত্র নির্মাতা)


