৩৩ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর গ্রেপ্তার হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবশালী মিত্র চার্লি কার্ককে হত্যার সন্দেহভাজন আসামি। তার নাম টাইলার রবিনসন (২২)। আত্মগোপনে থাকা রবিনসন পরিবারের প্রভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩১ বছর বয়সী কার্ক স্থানীয় সময় গত বুধবার উটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখার সময় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ক্যাম্পাসের একটি ভবনের ছাদ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যান সন্দেহভাজন হামলাকারী।
পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করে সন্দেহভাজন হামলাকারীর বিষয়ে তথ্য চায় পুলিশ। সে ফুটেজ দেখেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিজের সন্তান টাইলার রবিনসন হিসেবে চিহ্নিত করেন তার বাবা। হতভম্ব হয়ে তিনি জানান, রবিনসন এ ধরনের হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে তা কল্পনাতীত।

পুলিশ জানায়, কার্কের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান রবিনসন। তবে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তার বাবা আত্মসমর্পণের কথা বলায় রবিনসন আত্মহত্যার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় তরুণ ধর্মযাজক তাকে বুঝিয়ে আত্মসমর্পণের জন্য রাজি করান।
রবিনসনের বন্ধু, সহপাঠী ও প্রতিবেশীরা জানান, চুপচাপ ও লাজুক স্বভাবের এই তরুণ স্কুলজীবনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন। তার পরিবারও রাজনৈতিকভাবে নিজেদের রিপাবলিক ও ডানপন্থী সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে অনলাইন সংস্কৃতি ও ভিডিও গেম রবিনসনের রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টে দিতে প্রভাব রেখেছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই রবিনসনের মনে ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জন্ম নিয়েছিল। অনলাইন গেমিংয়ের নেশায় বুদ হয়ে থাকায় তিনি হয়তো বিতর্কিত কোনও সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার রাইফেল বহনকারী ব্যাগে পাওয়া গেছে অনলাইন গেম ‘হেল ডাইভারস ২’ এর চিহ্ন, ইতালীর ফ্যাসিস্টবিরোধী গান ‘বেলা চাও’-এর লাইনসহ, বেশকিছু কৌতুক।
এমনকি চার্লি কার্কের শরীরে যে গুলির খোসা পাওয়া গেছে সেখানে খোদাই করা ছিল-‘ হেই ফ্যাসিস্ট! ক্যাচ!’ অর্থাৎ, ‘স্বৈরাচার! লুফে নাও!’
তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, বুলেট কেসিংয়ে এমন বার্তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কার্কের ওপর হামলার ইঙ্গিত দেয়।
উটাহের গভর্নর স্পেনসার কক্স বলেন, ‘বুলেট কেসিংয়ে লেখা বার্তা অনেক কিছু বলে দেয়। এটি শুধু একটি গুলি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিবাদের ঘোষণা।’


