চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য বুধবার ধার্য করেছে আদালত। আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ প্রধান আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। অন্যদিকে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আসামির ফাঁসি দাবি করেছেন আয়াতের বাবা সোহেল রানা।
চট্টগ্রাম মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস মামলাটির রায়ের জন্য এদিন নির্ধারণ করেন। এর আগে, গত ২৩ মে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের দিন ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছে।’
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের আবেদনের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে উঠে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটিয়া মো. আবির। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ খণ্ডিত করে নগরের সাগরপাড় ও খালের পাশে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবিরের পাশাপাশি তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকেও আসামি করা হয়। কিশোর হওয়ায় ওই আসামির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তার বিচার বর্তমানে শিশু আদালতে চলমান রয়েছে। প্রধান আসামি আবির বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বাদী ও নিহত আয়াতের বাবা সোহেল রানা বলেন, ‘আমার মেয়েকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি চাইলেও একমাত্র সন্তানকে আর ফিরে পাব না। যে বিচার একবছরে হওয়ার কথা তা হতে দীর্ঘ ৪ বছর লেগেছে। আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি, ফাঁসি চাই।’


