কাতারের বিমান কি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানকে’ অবসরে পাঠাচ্ছে?

কাতারের বিমান কি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানকে’ অবসরে পাঠাচ্ছে?
এয়ার ফোর্স ওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: হোয়াইট হাউস
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বহনকারী বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানকে’ অবসরে পাঠানোর জোর গুঞ্জন উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই কাতারের পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দেওয়া বোয়িং ৭৪৭ বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানের জায়গা নিতে যাচ্ছে।

সে থেকেই এয়ার ফোর্স ওয়ানের পরিবর্তে বিমানটির সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘কাতার ফোর্স ওয়ান’ নাম নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, গত ৩০ বছর ধরে এয়ারফোর্স ওয়ান নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান প্রেসিডেন্টদের বহন করে চলেছে। তবে সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন, একটি বিমানকে গ্রাউন্ডেড (অবসরে পাঠানো) করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চ্যাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জি-৭ সম্মেলন থেকে এয়ারফোর্স ওয়ানে করে ট্রাম্পের ফিরে আসার ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ভালোভাবে কাজ শেষ করেছ, বিশ্বস্ত সেবক। শেষ যাত্রা।’

মার্কিন চিফ অব প্রোটোকল মনিকা ক্রাউলিও বিমানটির একটি ছবি শেয়ার করে জানান, ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ শেষে তাকে নিয়ে বিমানটি ওয়াশিংটনে ফিরে আসে। জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণের সময় তিনি ওই বিমানে ছিলেন।

মনিকা বলেন, ‘বিমানটি প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের সময় থেকে সব প্রেসিডেন্টকে সেবা দিয়েছে এবং আমি এর শেষ ফ্লাইটে থাকার সুযোগ পেয়ে সম্মানিত বোধ করেছি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবসর নেওয়া এই বিমানটি ১৯৯০ সালে চালু হওয়া দুটি বিশেষ বোয়িং ৭৪৭ মডেলের একটি। ফ্লাইটে প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকলে এটি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ নামে পরিচিত হয়।

আরও পড়ুন

অবশ্য বিমানটিকে অবসরে পাঠানোর নিশ্চিত তথ্য দিয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প কাতার থেকে উপহার পাওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭ ভবিষ্যতে তার সরকারি সফরের কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, আগামী মাসেই কাতারের বিমানটি ট্রাম্পের একটি উচ্চপর্যায়ের সফরের অংশ হতে পারে।

মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, গত মে মাসে উপহার পাওয়া বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শেষ করেছে এবং শিগগিরই এটি নির্বাহী বিমান বহরে যুক্ত হতে প্রস্তুত। এটি বিদ্যমান ভিসি-২৫এ এবং সি-৩২ বিমানের সঙ্গে যুক্ত হবে।

সি–৩২ বিমানকে বেশিরভাগ সময়ই তুলনামূলক ছোট আকারের হওয়ায় একে ‘বেবি এয়ার ফোর্স ওয়ান’ নামে ডাকা হয়। এটি বোয়িং ৭৫৭ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং তুলনামূলক ছোট দূরত্বের সফরে ব্যবহার করা হয়।

এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাধারণত উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে বলে ধারণা করা হয়, যার মধ্যে রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি, ইনফ্রারেড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিভ্রান্ত করার ফ্লেয়ার প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত।

কাতার থেকে উপহার পাওয়া বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি কয়েকশ কোটি ডলার মূল্যের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি বিদেশি উপহার হওয়ায় তা প্রেসিডেন্টের ভ্রমণে যুক্ত করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিকতা ও সাংবিধানিক আইনের প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিদেশি বিমান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

অবশ্য ট্রাম্প কাতারের এই দামী উপহারকে সমর্থন করে বলেছিলেন, এটি গ্রহণ না করা ‘বোকামি’ হতো। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুরনো প্রেসিডেন্ট বিমানের সমালোচনা করে আসছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই বিমানটি তার সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট লাইব্রেরিতে প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষণ করা হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বোয়িংয়ের কাছ থেকে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য দুটি নতুন বোয়িং ৭৪৭–৮ বিমান তৈরির চুক্তি করেছে। তবে এই প্রকল্পটি দীর্ঘ বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির সংকটে আটকে আছে বলে জানা গেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর