ইরানের ওপর ষষ্ঠ দিনের হামলা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরেও সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইকুয়েডরের সঙ্গে যৌথভাবে ‘সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা’ করছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মার্কিন দক্ষিণ কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে ইকুয়েডর ও মার্কিন সামরিক বাহিনী দেশটির অভ্যন্তরে মনোনীত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করেছে।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান বলেছেন, এটি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা মোকাবিলায় ‘শক্তিশালী উদাহরণ’ হিসেবে কাজ করবে। অভিযানের সমর্থনে হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ও আকাশ থেকে নজরদারির ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মাদক কার্টেলগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করে সামরিকভাবে দমন করার নীতি গ্রহণ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ‘আমরা সেই মাদক-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছি যারা গোলার্ধ জুড়ে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি চালিয়ে আসছে।’
ইকুয়েডরের ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়াও ট্রাম্পের নীতি সমর্থন করে এটিকে ‘নতুন পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত মার্কিন বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে ইকুয়েডরের সৈন্যদের সহায়তা করছে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই অভিযানের আইনি ভিত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের মতে, মাদক পাচার আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ হলেও, ‘যুদ্ধের কাজ’ নয়। সামরিক হামলা চালিয়ে সন্দেহভাজনদের হত্যা করা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ইতোমধ্যে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৪৪টি বিমান হামলায় প্রায় ১৫০ জন নিহত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিহতদের মধ্যে অনেকে সাধারণ জেলে বা অনানুষ্ঠানিক কর্মী ছিলেন, মাদক পাচারকারী নন।
ইকুয়েডরে অভিযানকে ট্রাম্পের মাদকবিরোধী যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নোবোয়া মার্কিন সাহায্যকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে কলম্বিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে যারা এই পদক্ষেপে সহমত নয়, তাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন বলেছেন, প্রশাসন সম্ভবত ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে মার্কিন সেনার সরাসরি উপস্থিতিতে গর্ব করতে চায়। তিনি মনে করেন, ইকুয়েডর মেক্সিকোর তুলনায় অনেক বেশি সহনশীল আচরণ করছে।


