আগামী তিন বছরের মধ্যে নিবন্ধনকৃত ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০ লাখে উন্নীত করতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। সংস্থাটির চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘এ লক্ষ্যে ভ্যাট কর্মকর্তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছয় লাখ ৪৪ হাজার।
মঙ্গলবার এনবিআর ভবনে ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ, ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সেই সঙ্গে জিওমেট্রিক হারে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান বাড়ানোর উদ্যোগ নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভ্যাট আতঙ্ক দূর করতে এনবিআর প্রতিনিয়ত কাজ করছে।’
প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১০ ডিসেম্বর ভ্যাট দিবস এবং ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্যাট সপ্তাহ পালন করছে।
নিবন্ধনকে গুরুত্ব দিয়ে এ বছরের ভ্যাট দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সময়মত নিবন্ধন নিব, সঠিকভাবে ভ্যাট দিব’।
এ প্রতিপাদ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ১০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক লক্ষ নতুন ভ্যাট নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৩৮ শতাংশ ভ্যাট থেকে আদায় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি ভ্যাট আদায় হয়েছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, ভ্যাট আদায় ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার মাধ্যমে ভ্যাটের আদায় উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি করে দেশের আর্থিক বুনিয়াদ মজবুত করা সম্ভব। করদাতাদের স্বেচ্ছায় কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং কর ফাঁকি কমানোই এনবিআরের মূল লক্ষ্য।
দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। তাদের পরিশোধিত রাজস্ব সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক ও রেল অবকাঠামো নির্মাণ, ঋণ পরিশোধ, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে ভর্তুকি প্রদানসহ নানাবিধ জনকল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে।
ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে নানামুখি চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, অনিবন্ধিত ব্যবসা, পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের অভাব, রেয়াত-শৃঙ্খল কার্যকর না হওয়া, অতিরিক্ত অব্যাহতি, ম্যানুয়াল অডিট ব্যবস্থা, ই-কমার্স ও উদীয়মান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করতে না পারায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য হারে ভ্যাট হারাচ্ছে সরকার।
এসব চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং ডিজিটালাইজড করতে অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ই-সহগ, অনলাইন পেমেন্ট, ই-রিফান্ড, ই-অডিট, ভ্যাট স্মার্ট চালান প্রবর্তন, ভ্যাট ফাঁকি মোকাবেলায় ‘রিস্ক-বেজড’ অডিট সিস্টেম চালুসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।


