জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে আদালত।
প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি করে ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, এ আদেশ দেয়।
আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, শরিফ ওসমান হাদি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। মামলা চলাকালে তিনি মৃত্যুবরণ করায় সেই জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য প্রসিকিউশন আবেদন করেছিল। আইন অনুযায়ী এ রকম আবেদন গ্রহণের বিধান রয়েছে। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
গত ২২ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি করে সেদিন ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়।
এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এরপরও তারা গ্রেপ্তার বা হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। যেহেতু আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার হতে আইনে কোনো বাধা নেই।
প্রসিকিউশন জানায়, এসব কারণে ওবায়দুল কাদেরকে এখানে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই শীর্ষস্থানীয় নেতা; তার নিজ নিজ অর্গানাইজেশনের; সেই কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে তাদের আসামিভুক্ত করা হয়েছে।


