ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না।
সোমবার বেলা ১২টায় ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদির হত্যাকারী কারা সেটা না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দিয়ে চলে যাবেন এটা হবে না। নির্বাচনের আগে হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, এর আগে কোনো নির্বাচন হবে না।’
এসময় স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনেন তিনি।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনি ও তাদের মদদ দাতাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথ ছাড়বে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ এখন থেকে পুরো সময় রাজপথে থাকবে। হাদির খুনি ও খুনিদের মদদ দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে জাবের বলেন, ‘আপনি বলেছেন, আপনি শরিফ ওসমান হাদিকে ধারণ করেন। কিন্তু একবারের জন্যও জানাজার ময়দানে আপনি বলেননি, এই খুনের বিচারের ব্যাপারে আপনি কী করবেন।’
হাদির হত্যার বিচারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কি পদক্ষেপ নেবে তা জাতি জানতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনার যে অসহায়ত্ব আমরা সেটা দেখতে পেয়েছি। সেটা কীসের জন্য আমরা তা জানতে চাই। আপনাকে কে অসহায় করে তুলল সেটা জানতে চাই।’
এছাড়া শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্তে যুক্ত করার দাবিও জানান তিনি।
আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বিকাল ৩টায় ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। মিছিল শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভ মিছিলের পর আমরা সিদ্ধান্ত জানাব যে, এই সরকারের সঙ্গে আমরা থাকব, নাকি ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করব।’
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান ওসমান হাদি।
১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ বহনকারী বিমান দেশে এসে পৌঁছায়। পরে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।


