হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে হলে অবশ্যই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেওয়া নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী।
ঢাকার ইরানি দূতাবাসে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জানান, ইরানের অনুমতি বা যোগাযোগ ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি আনতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘এই পথ দিয়ে জাহাজ পার হতে হলে ইরান যে নিয়ম বলে দেবে, সেটাই মানতে হবে।’ এছাড়া বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি নিয়ে আসা জাহাজগুলো যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে তিনি কাজ করছেন বলেও জানান রাষ্ট্রদূত।
ইতিমধ্যে কোনো বাংলাদেশি জাহাজ এই পথ পার হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত জানান, এটি খবরটি গোপন এবং এটি শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই জানেন।
এই জলপথটি আবার পুরোপুরি চালু করার বিষয়ে তিনি বলেন, ইরান, কাতার ও ওমানের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শর্ত হলো, ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবে ইরান তাদের সাহায্য করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। তিনি বলেন, সামনে তৃতীয় আরেকটি যুদ্ধ লাগতে পারে। তবে যেকোনো যুদ্ধের জন্যই ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত আছে। তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক হামলার মুখে পড়ে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।


