হত্যা মামলায় নেত্রকোনা -১ আসনের সাবেক এমপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগে নেতা মোশতাক আহমেদ রুহীসহ দুইজনকে চার দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী রাজু আহমেদ (২৪) হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম কবির।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, পলাতক ও অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে তাদেরকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।
মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি হলেন-মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কবির হোসেন(৪৬)। তিনিএ মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ফারুক হোসেন ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘এই আসামি শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী। জুলাই আন্দোলনের মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ী এলাকায় জননী কুরিয়ার সার্ভিসের গলির সামনে বিক্ষোভ চলছিল। কুরিয়ার সার্ভিসটির কর্মচারী রাজু সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন সেখানে তাদের উপর গুলি চালানো হয়। এই আসামি বিডিআর কিলিং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তখন তদন্তে তার নাম এসেছিল।’
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আদালতে বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহী একজন বয়স্ক মানুষ। কিছু দিন আগে তার মেয়ে মারা গেছেন। তার যদি একান্তই জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হয় তাহলে তাকে জেল গেইটে জিজ্ঞাসা করা হোক।’
আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে দুই আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে এ মামলায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে আসামিদেরকে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকালে তাদেরকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে মোহাম্মদপুরে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে আন্দোলন দেখারত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন ভুক্তভোগী রাজু আহমেদ। পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পরে রাজুর বাবা মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।


