দেশে সংস্কার চাইলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ফাওজুল কবির খান।
তিনি বলেন, ‘এবার নির্বাচনের সঙ্গে একটি গণভোট হচ্ছে। এখানে “হ্যাঁ” অথবা “না” ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যদি চান দেশে সংস্কার হোক, তবে “হ্যাঁ” ভোট দেবেন। আর যদি সংস্কার না চান, তবে “না” ভোট দেবেন। তবে মনে রাখতে হবে, এই সংস্কারের দাবিতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষ প্রাণ দিয়েছে।’
শুক্রবার বেলা ১১টায় দিনাজপুর বড়মাঠে ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন: দেশের চাবি আপনার হাতে‘ শীর্ষক ‘ভোটের গাড়ি’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ফাওজুল কবির খান জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল পরবর্তী পাঁচ বছরের সরকার গঠনের বিষয় নয় বরং এটি দেশের আগামী ৫০ বছরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগের নির্বাচনগুলো দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতো উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতের নির্বাচনে ভোটের হিসাব কারচুপি করে জনগণের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত হতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া, অতীতে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।
এ সময় সাধারণ জনগণের ক্ষমতা বেশি এমন মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রপতি কিংবা উপদেষ্টারা নন বরং সাধারণ জনগণ। সেই ক্ষমতা প্রদর্শনের মোক্ষম দিন হচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো রাজনৈতিক দল নেই আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল, ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে ভোটাররা স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। এবারের নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য।
দিনাজপুর অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এতে কোনো শিথিলতা সহ্য করা হবে না।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা শেষে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার গাড়ির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।


