শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রম আইনের বিদ্যমান ত্রুটিগুলো নিরসনে সরকার শ্রমিক নেতা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পেশাগত স্বাস্থ্য বিষয়ে মালিক ও শ্রমিক-উভয় পক্ষকেই সচেতন হওয়া দরকার।
বাংলাদেশে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা চর্চা বৃদ্ধিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের বিশেষ সেমিনারে এ কথা বলেন মন্ত্রী। পরিদর্শন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।
‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মো. ইমরুল মহসিন তার বক্তব্যে পেশাগত স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রতিবছর পেশাগত কারণে যত মানুষ মৃত্যুবরণ করেন তার ৮৮ শতাংশই মারা যান পেশাগত বিভিন্ন রোগের কারণে।
তিনি এই মৃত্যুর হার কমাতে কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে অধিকতর মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, শ্রমবান্ধব আইন প্রণয়ন ও সংস্কারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মক্ষেত্র কেবল শারীরিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং একটি মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে শক্তিশালী মেলবন্ধন তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, উৎপাদনের মূল শক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। আমাদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল সেবা তাদের মাধ্যমেই আসে। তাই তাদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞ শ্রমিকের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের নয় বরং শিল্পেরও বড় ক্ষতি। শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত করা এবং তাদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা উন্নত দেশ গড়ার পূর্বশর্ত।
তিনি পরিদর্শন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পরিদর্শকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং আদালতে ঝুলে থাকা পরিদর্শন সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথম শ্রমবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছিলেন। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুছ সামাদ আল আজাদ এবং মন্ত্রণালয় ও মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।


