রাজধানীর মগবাজার এলাকায় নবীন ফ্যাশনের একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে তিনি লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন এবং পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এর আগে, গত বুধবার আদালত ওসিকে তলব করে তিন দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নবীন ফ্যাশনের পাঞ্জাবির দোকানটি খুলে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দেওয়া ওই আদেশে বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, মগবাজারের বিশাল সেন্টার মার্কেটের ‘নবীন’ ব্র্যান্ডের একটি দোকানে একদল লোক পুলিশসহ উপস্থিত হয়ে দোকান বন্ধ করে দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামাল উদ্দিন মারজিন বলেন, ‘আদালত ওসির বক্তব্য শুনেছেন। নবীন ফ্যাশন বন্ধের দিন কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু ও স্বজন হিসেবে পরিচয় দেন। এ বিষয়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের মতামত চেয়েছেন এবং ওসির ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমান রেখেছেন।’
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর ওসি গোলাম মর্তুজাকে ইতোমধ্যে হাতিরঝিল থানা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঈদুল ফিতরের আগের দিন ২০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় আশপাশের ব্যবসায়ীরা ‘নবীন ফ্যাশন’-এর দোকানটি বন্ধ করে দেয়।
প্রতিবেশী দোকানদাররা কম দামে পণ্য বিক্রিকে ‘রিলিফ দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানান। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়।
আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে কিছু ব্যক্তিকে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে দেখা গেলেও পুলিশ সদস্যদের নির্লিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে।
কেন এ ধরনের আচরণ আইনবহির্ভূত ও পেশাদারিত্ববিরোধী হিসেবে ঘোষণা করা হবে না–তা জানতে চেয়ে হাতিরঝিল থানার ওসিকে তিন দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।


