চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের শাটল ট্রেন সংকট নিরসনে রেল প্রতিমন্ত্রীর কাছে ছয় দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। এ সময় সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী।
রোববার বিকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে এ স্মারকলিপি দেন চাকসু এজিএস।
স্মারকলিপিতে চবি শিক্ষার্থীদের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম শাটল ট্রেনের দীর্ঘদিনের সংকটের কথা তুলে ধরে আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, চট্টগ্রাম শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী শাটল ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ও বগি সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা মিস করছেন। এমনকি শাটল ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে বিভিন্ন সময় পরীক্ষা স্থগিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেশনজট ও শিক্ষাজীবনে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।’
এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাটল ট্রেন সংস্কারে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন চাকসু এজিএস। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শাটল ট্রেন ও ট্রিপের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন; অতিরিক্ত বগি চলাচলের জন্য স্টেশনের লুপ লাইন ও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ; শিডিউল বিপর্যয় রোধে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত ও আধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু; ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ; স্টেশন ও ট্রেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং ভাঙা মেঝে, ছাদ, দরজা-জানালা ও সিট মেরামতের পাশাপাশি স্টেশনগুলোতে শেড ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর রেল প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের সমস্যাগুলো সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। বর্তমানে রেলওয়েতে মিটারগেজ লাইনের নতুন লোকোমোটিভের সংকট রয়েছে, যা শাটল ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি ও দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় চবি শাটল ট্রেনের বিষয়টি বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।


