রামপুরার জোড়া খুন ও হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়।
আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেছেন। আদালতের অনুমতিক্রমে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
মামলায় আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন যুক্তি তুলে ধরে দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই। তবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন।
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এ মামলায় আসামি পাঁচজন। অন্য আসামিরা হলেন ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান, সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। আসামিদের মধ্যে চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন। তিনি গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি।
গত ৪ মার্চ এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। প্রসিকিউশন নতুন করে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়ার আবেদন করায় মামলার প্রথম সাক্ষী আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আমির হোসেন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন। পুলিশ গুলি শুরু করলে তিনি নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় আশ্রয় নেন। পুলিশ সদস্যরা সেখানে ঢুকে তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন ও ভয় দেখাতে গুলি করেন। আমির হোসেন ভয়ে লাফ দিয়ে ভবনের রড ধরে ঝুলে থাকলে তৃতীয় তলা থেকে এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলি আমিরের দুই পায়ে লাগে। পুলিশ চলে গেলে তিনি কোনো রকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।


