রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সমন্বিতভাবে একাধিক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। একই সঙ্গে ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো পরিষ্কার করছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দ্রুত কমে এসেছে।
তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়মিত খাল পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া ২৯টি খাল ও একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা নির্ধারণ এবং খালের পাশে এক হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অবৈধ দখল রোধ করা যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল—এই তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি নতুন বড় আউটলেট (বড় নর্দমা) নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এলজিআরডি মন্ত্রী জানান, শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বক্স কালভার্ট এবং ৮ ফুট ব্যাসের বৃহৎ নর্দমা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় নিউমার্কেট, নাঈম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড ও পশ্চিম মালিবাগসহ ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর করতে ২২টি খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন, চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা দেখা দিলে দ্রুত বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য ছয়টি পোর্টেবল পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা- এই চারটি বড় খালের খনন ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ- সবগুলো কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিন কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য বিরোধী দলের মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী ভোটারকে পোস্টাল ব্যালটের আওতায় আনা হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রথমবারের মতো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় ভোটার নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতি চালু করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে পোস্টাল ব্যালটের আওতায় এনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।


