রংপুরের গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর কালবৈশাখীর ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ধ্বংসাবশেষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কুড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঠায় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে। অথচ এমন দুর্দিনেও ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও কেউ তাদের সহযোগিতা বা খোঁজ নেয়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কালবৈশাখীর ঝড় বয়ে যায় ইউনিয়নটির ২, ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের চর নোহালী, চর বাগডহরার নিজ পাড়া, চকিদারপাড়া, মেম্মারপাড়া এলাকায়। এতে প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই এলাকার বাক প্রতিবন্ধী মুন মিয়া, সুজা মিয়া, রফিকুল, সুমন, জাহানুর, লাভলু , রহেল, আসেদা বেগমসহ অনেকের বাড়িঘর এখন ধ্বংসস্তূপ। এমনকি তাদের রান্না করে খাওয়ারও কোন সুযোগ নেই। দিনের বেলা এবাড়ি ওবাড়ি আশ্রয় নিতে পারলেও রাতে ঘুমানোর কোন জায়গা নেই। খোলা আকাশের নীচেই রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
ঝড়ে আশাপাশের বহু গাছগাছালি উপড়ে গেছে। শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে ভুট্টার খেতসহ অনেক জমির ফসল।
বাড়িঘর, জমির ফসল হারিয়ে দিশেহারা দিনযাপন করছেন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত রহেল উদ্দিন বলেন, ‘আমি অসুস্থ। তবুও কর্ম করে খাই। রাতে ১টার সময় বাড়িতে এসে খাওয়া দাওয়া করার পরপরই ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। টিনের চাল যে কোথায় উড়ে গেছে তা বলতে পারব না। অনেক খুজেছি, কিন্তু পাই নাই। এখন কি করব। কোথায় থাকব। কিছুই বুঝতে পারছি না।’
সুজা মিয়া বলেন, ‘আমার তিনটি ঘড় ছিল। সব বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বাউ বাচ্চা নিয়ে রাতে কোথায় থাকব তার কোন উপায় নাই। ঋণ করে জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছিলাম। সেটাও শেষ। বাড়িঘর ঠিক করার মতো ক্ষমতাও আমার নেই। মেম্বার চেয়ারম্যানরা তো এদিকে আসেও না।‘

অপর ক্ষতিগ্রস্ত রফিকুল ইসলাম জানান তার থাকার দুটি ঘরই ঝড়ে উড়ে গেছে। থাকার কোন জায়গা নেই।
তিনি বলেন, ‘মানুষের বাড়িতে কাজ করে খাই। এখন ঘড় তুলব, না পেটের ক্ষুধা মেটাব কিছুই বুঝতে পারছি না। কেউ একটু সহযোগিতা করবে সেটাও নাই। সরকারও দেখে না। আমি বউ ছেলে নিয়ে কোথায় যাব। এখন পর্যন্ত মেম্বার চেয়ারম্যান কেউ আসলো না।’
স্থানীয় বাগডহরা সততা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. আল-আমিন জানান, গভীর রাতের ঝড়ে এলাকার অন্তত ১০০ পরিবারের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই আহত হয়েছেন। কিন্ত স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান বা ইউএনও কেউই খোঁজ খবর নেননি কিংবা সহযোগিতা করেননি।
তিনি বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ খুবই অসহায়। নদী ভাঙ্গন কবলিত। তারা দিন আনে দিন খায়। এখন বাড়িঘর তোলার বন্দোবস্ত না করতে পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের খোলা আকাশের নিচেই বসবাস করতে হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে তাদের জন্য টিনের বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার রেজাউল ইসলাম বুলেট এবং ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলীর সাথে একাধিকবার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ ফোন ধরেননি।
একই অবস্থা গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারেরও। তাদের সঙ্গে সরাসরি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


