মিরপুরের রূপনগরে রাসায়নিক গুদাম থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভানো গেলেও বিষাক্ত ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আশেপাশের বিভিন্ন তৈরি পোষাক কারখানার কর্মীরা। অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গে ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুরে অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল এবং ফায়ার সার্ভিসের ‘হ্যাজমেট টিম’ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা এলাকাটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে কৌতূহলী জনতাকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর কাজী নজমুজ্জামান বলেন, ‘রাসায়নিক গুদামে প্রচুর সাদা ধোঁয়া ছড়িয়েছে, যা অত্যন্ত বিষাক্ত। এটি নিয়ন্ত্রণে সময় লাগবে। আমরা সবাইকে এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি সতর্ক বার্তায় আরও বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত গুদামে কী ধরনের রাসায়নিক ছিল তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষাক্ত গ্যাস মানবদেহের ফুসফুস, হৃদপিণ্ডসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে’।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী শুক্রবার পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন কারখানার মালিক পক্ষ।
এদিকে, আগুন লাগা রাসায়নিক গুদামে মাস্ক ও বিশেষ পোষাক পরে প্রবেশ করেছেন ফায়ার ফাইটাররা। পরে তারা জানান, ভেতরে রাসায়নিক বিস্ফোরণের সম্ভাবনা আর নেই। তারা আগুন পুরোপুরি নেভানোর কাজ করছেন। পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভাল।
স্থানীয় কারখানার শ্রমিকরা জানান, শিয়ালবাড়িতে মঙ্গলবার একটি বদ্ধ রাসায়নিক গুদামে মঙ্গলবার আগুন লেগে পাশের সাততলা পোশাক কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। স্বল্প দূরত্বের কারখানাগুলো সেদিন তাৎক্ষনিকভাবে ছুটি ঘোষণা করা হলেও বুধবার ফের কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় মালিক সমিতি।
এতে মঙ্গলবার রাতেই প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার ওই এলাকার সব কারখানা বন্ধ রাখার দাবি জানান শ্রমিকেরা। তবুও মালিক পক্ষ জোরপূর্বক কারখানা খোলা রাখায় বিষাক্ত পরিবেশেও কাজে যোগ দিতে বাধ্য হন তারা।
স্থানীয় কারখানার শ্রমিকরা জানান, কারখানায় ঢুকতেই তাদের নাক-মুখ জ্বালা-পোড়া করতে শুরু করে। অনেকেরই নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। রাইজিং অ্যাপারেল লিমিটেডের এক নারী শ্রমিক জানান, কারখানায় ঢোকার কিছুক্ষণ পরেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর জ্ঞান ফিরলেও তিনি এখনও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।

তিনি জানান, একই কারখানার আরও ১৫ থেকে ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সবাই চোখ জ্বালাপোড়া আর শ্বাসকষ্টের কথা বলছিলেন।
এদিকে কারখানা খোলা রাখলেও বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসের কারণে উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারখানা মালিকেরা। কয়েকটি কারখানার ভেতরে গ্যাস জমে থাকায় সেখানেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
রাইজিং অ্যাপারেলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মইনুল হাসান জানান, আশেপাশের কারখানাগুলোতে পাঁচ শতাধিক কর্মী কাজ করেন। সকাল ৮টায় কাজ শুরু হলেও পৌনে ৯টার মধ্যেই গ্যাসের কারণে কারখানা বন্ধ করে সবাইকে ছুটি দেওয়া হয়।


