মার্কিনিদের আয়করের বিকল্প হবে শুল্ক: ট্রাম্প

মার্কিনিদের আয়করের বিকল্প হবে শুল্ক: ট্রাম্প
স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ভাষণ দিচ্ছেন ট্রাম্প। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

বিভিন্ন দেশের পণ্যে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক একদিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আয়করকে প্রতিস্থাপিত করবে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, বিদেশি দেশগুলোর পরিশোধ করা শুল্ক ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক আয়কর ব্যবস্থার বড় অংশের জায়গা নেবে এবং আমেরিকানদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমাবে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, যারা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঠকিয়েছে’, তারা এখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নেওয়ার পর বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক থেকে আসা অর্থ দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা- দুই ক্ষেত্রেই বড় সাফল্য এনে দিয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, কেবল শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েই তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসা করতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই শুল্কের মাধ্যমে শত শত বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। সেই অর্থ ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে। যেসব দেশ আগে অন্যায় সুবিধা নিত, তারা এখন অর্থ দিচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হচ্ছে।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার সিদ্ধান্তের জেরেই এতদিন দেশে মুদ্রাস্ফীতি ছিল না এবং প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে আগের মতো লাভ করতে না পারলেও ওয়াশিংটনের আয় বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ছয় মাসের মধ্যেই ট্রাম্প বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিতে বড় পরিবর্তন আনেন। গত বছরের ২ এপ্রিল তিনি বাণিজ্য ঘাটতি থাকা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ বা রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি প্রায় সব দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ‘ন্যূনতম শুল্ক’ বা বেসলাইন ট্যারিফ আরোপ করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৭ সালের একটি আইন ব্যবহার করে বাণিজ্য ঘাটতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণ আমদানি শুল্ক আরোপের পথ তৈরি হয়।

তবে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও চাপের মুখে ৯০ দিনের জন্য পারস্পরিক শুল্ক স্থগিত করে দেশগুলোকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় বসার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

পরবর্তীতে কিছু দেশ সমঝোতায় এলেও, যারা রাজি হয়নি তাদের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপ করা হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ট্রাম্প আরোপিত বিপুল আমদানি শুল্ক বাতিলের রায় দেয়। ট্রাম্প এই রায়কে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করে জানান, বিকল্প আইনগত ব্যবস্থায় শুল্ক বহাল থাকবে এবং কংগ্রেসের নতুন পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে না।

রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বিশ্বজুড়ে আমদানির ওপর নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেন। নতুন এই শুল্ক একটি আইনের আওতায় ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর হবে এবং তা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর