প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন এবং যুগের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের আইন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, জুয়া প্রতিরোধ আইন এবং দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আইনগুলোর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিবৃতিতে বলা হয়, মাদক পাচার ও অপব্যবহারের পরিবর্তিত ধরন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার এবং বিচারিক কার্যক্রমে বিদ্যমান বাস্তব সমস্যার সমাধানে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে নতুন বিধান, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, অভিযান পরিচালনা এবং মাদক শনাক্তে ডগস্কোয়াড গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
অন্যদিকে, অনলাইন ও অফলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, বুকমেকার, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ জুয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, নকল ও ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এতে পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকা হ্যাকিং কিংবা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠনের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন পায়। সরকার জানিয়েছে, পূর্বে প্রণীত ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ কার্যকর না হওয়ায় বর্তমান বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কৃষি, আইন, ব্যবসা প্রশাসন, সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।


