নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দিন দিন কমছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলার চর্চা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও এ খেলায় তরুণদের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নের ভার্ণাপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একসময় গ্রামে নিয়মিত হাডুডু খেলার আয়োজন হতো। বর্তমানে খেলার মাঠ কমে যাওয়া, বসতবাড়ি নির্মাণ এবং তরুণদের মোবাইল ফোন ও অনলাইননির্ভরতা বাড়ায় মাঠে খেলাধুলার উপস্থিতি কমেছে।
ভার্ণাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে বিকাল হলেই তরুণেরা হাডুডু খেলতে মাঠে যেতেন। এখন তাদের বেশির ভাগ সময় কাটে মোবাইল ফোনে।
প্রবীণ হাডুডু খেলোয়াড় জাহেদুল ইসলাম ও খলিলুর রহমান জানান, খেলাটির প্রতি আগ্রহ থাকলেও নিয়মিত মাঠ, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক আগ্রহ কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্ম এ খেলায় উৎসাহ পাচ্ছে না।
শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সংগঠকদের মতে, হাডুডু শারীরিক চর্চার পাশাপাশি আন্তগ্রাম যোগাযোগ ও সামাজিক সৌহার্দ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখত। স্থানীয় শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে শিশু-কিশোরদের সামাজিক ও শারীরিক বিকাশে বিদ্যালয় পর্যায়ে ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ফিরিয়ে আনা জরুরি।
স্থানীয় ক্রীড়া আনোয়ার হোসেন বলেন, হাডুডু টিকিয়ে রাখতে বার্ষিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জানান, গ্রামীণ খেলাধুলা টিকিয়ে রাখতে পরিকল্পিত প্রতিযোগিতার আয়োজন ও মাঠ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রুবানা তানজিন জানান, হাডুডুসহ গ্রামীণ খেলাধুলা সংরক্ষণে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাডুডু টিকিয়ে রাখতে খেলার মাঠ সংরক্ষণ, বিদ্যালয় পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ খেলা আরও আড়ালে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


