ময়মনসিংহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০

ময়মনসিংহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০
নিহত দীপু চন্দ্র দাস | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাশকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ‍্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ এ কথা জানান।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যাদুর তাহির গ্রামের মো. তারেক হোসেন (১৯), কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার উত্তর বড়ভিটা গ্রামের মো. লিমন সরকার (১৯), ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ছোটখালার গ্রামের মো. মানিক মিয়া (২০), গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যাদুর তাহির গ্রামের এরশাদ আলী (৩৯), সুনামগঞ্জের ধোয়ারা উপজেলা বাঘমারা গ্রামের নিজুম উদ্দিন (২০)|

এ ছাড়া মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বড়বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেন (৩৮), ঝালকাঠির পোনাবালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ওই কারখানার কোয়ালিটি পরিদর্শক মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬), ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মো. আজমল হাসান সগীর (২৬) ও মো. শাহিন মিয়া (১৯) এবং  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. নাজমুল (২১)।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা আত্মগোপনে যান। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একাধিক দল জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দশজনকে গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন

মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

নিহত দীপু চন্দ্র দাশ ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করেছেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানায় দীপু চন্দ্র দাশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা নিহতের মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নিয়ে গিয়ে গাছে ঝুলিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এ ঘটনায় শুক্রবার বিকালে নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন।

নিহতের বাবা রবি চন্দ্র দাস ও বোন চম্পা দাসের দাবি, কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে দীপুকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত দীপু চন্দ্র দাশ তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই কারখানার কোয়ালিটি সুপারভাইজার ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর