ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। গত শনিবার থেকে সাত দিনে এসব ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সবশেষ শুক্রবার ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজের চারটি, জাজিরা এয়ারওয়েজের চারটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ছয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) দুটি,ইউএস বাংলার পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুটি (বাহরাইন), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের (বাংলাদেশ) দুটি এবং এমিরেটস এয়ারলাইনসের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) চারটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত), এমিরেটস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, গালফ এয়ার এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট রয়েছে।
বুধবার বাতিল হয় ২৮টি ফ্লাইট। এদিন কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ), এমিরেটস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
মঙ্গলবার বাতিল হয় ৩৯টি ফ্লাইট। এদিন কাতার এয়ারলাইনস, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারলাইনস, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ) ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে সোমবার। এদিন সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ছিল কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ ছাড়া রোববার ৪০টি, শনিবার ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট রিশিডিউল করা হলেও ফ্লাইটগুলো এখনো অনিশ্চিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ইরানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ইরানসহ কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। অন্যান্য দেশগুলো হলো– ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর ওপর। ফলে ঢাকা থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যের একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।


