রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী গৃহবধূ ফাহমিদা তাহসিন কেয়া হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকি ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালত মামলা করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। পরে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এ মামলার আসামিরা হলেন-মনির, দিপা সিকদার ও মাহফুজ সিকদার।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসফাকুর রহমান গালিব।
তিনি বলেন, ‘কেয়ার বাবাকে হত্যার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আসামিরা কেয়ার বাবাকে হত্যা ও অপহরণের উদ্দেশ্যে দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে আসে, যার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। এভাবে ভিকটিম পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ভবিষ্যতে অনেকে আইনি পদক্ষেপ নিতে ভয় পেতে পারেন।’
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় গৃহবধূ ফাহমিদা তাহসিন কেয়াকে গত ১৩ আগস্ট তার শশুর বাড়িতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর থেকেই আসামিপক্ষ কেয়ার মা ও বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর কেয়ার মা কে আসামি দিপা শিকদার ফোন করে প্রাণনাশের হুমকিসহ তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হত্যা মামলা প্রত্যাহার করতে বলেন।
এ ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে গত ৮ অক্টোবর সকাল ১১ টা ৪০ মিনিটের সময় ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ নং গেটের সামনে কেয়ার বাবা বাজার করতে গেলে আসামি মনির, দিপা সিকদার ও মাহফুজ সিকদারসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন সন্ত্রাসী কালো রঙের গাড়িতে এসে সাত দিনের মধ্যে মামলা উঠিয়ে নিতে প্রাণ নাশের হুমকি দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এ সময় আসামিরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। পরবর্তীতে আসামিরা কেয়ার সন্তানদের অপরহনের উদ্দেশ্যে তার বাসার দিকে রওনা দিলে স্থানীয় জনতার প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর রমনা থানায় জিডি করা হয়। পরে থানার পরামর্শে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী মাহমুদ।


