ব্রাকসু নির্বাচন ২৯ ডিসেম্বর, বয়কট ছাত্র সমন্বয়কদের

ব্রাকসু নির্বাচন ২৯ ডিসেম্বর, বয়কট ছাত্র সমন্বয়কদের
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ফেসবুক থেকে
Advertisement
Advertisement

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ও হল ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর।

নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার রাতে এই তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে, এই তারিখকে বয়কট করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে ছাত্র সমন্বয়করা। তারা শীতকালীন ছুটির আগেই নির্বাচনের তারিখ দাবি করেছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. শাহজামানসহ ৬ নির্বাচন কমিশনার ব্রাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল থেকেই তারিখ ঘোষণার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে শিক্ষার্থীরা।

ঘোষিত তফসিলে বলা হয়েছে, ১৮ নভেম্বর আচরণবিধি (প্রস্তাবিত) সিন্ডিকেট সভাপতি বরাবর পাঠানো হবে। ২২ নভেম্বর খসরা ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ২৪ নভেম্বর আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হবে। পরে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৬ ডিসেম্বর। ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হবে। ২ ও ৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের পরে ৪ ও ৬ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র বাছাই করা হবে। প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ৭ ডিসেম্বর। পরদিন প্রার্থী তালিকা নিয়ে আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করার পর ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করা হবে। ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে, ১৩ ডিসেম্বর চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। ওইদিনই ভোট গণনা করে ফলাফল প্রকাশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তফসিলে।

এদিকে আনুষ্ঠানিকতা কিংবা প্রেস ব্রিফিং ছাড়াই শুধু নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে ব্রাকসুর মতো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভ করে সমাবেশ থেকে তফসিল প্রত্যাখ্যান করে শীতকালীন ছুটির আগেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন ছাত্র সমন্বয়করা।

আরও পড়ুন

এ সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক জয় বলেন, ‘প্রশাসন ইচ্ছাকৃত ব্রাকসু নির্বাচন পিছিয়ে এমন একটা সময় দিয়েছে। যে নির্বাচন হয় হোক, না হয় নাই। এটা তারা দায়সারা কাজ করেছে। নির্বাচনের যে তফসিল এটা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের যে ভিত, সেটা তারা তৈরি করতে দিবে না। এ বিষয়ে আমরা বুধবার সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন ঘোষণা করব।’

অপর সমন্বয়ক ও ছাত্রশিবির নেতা আহমেদুল আল বীর জানান, শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই যেন ব্রাকুস নির্বাচন শেষ হয়। কিন্তু প্রশাসন দিয়েছে ২৯ ডিসেম্বর। সে সময় শীতকালীন ছুটি থাকবে। তার ওপর জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। সে সময় নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে। তাই তারিখ এগিয়ে এনে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো. শাহজামান জানান, শিক্ষার্থীরা তফসিল প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। তাদের চাওয়ার প্রেক্ষিতে ইসির সঙ্গে পর্যালোচনা করে ভেবে চিন্তে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। যে সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব সেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সেটা করা হবে। এর বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা যাবে না। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে ইসির সাথে বসতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এম শওকাত আলী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ইন্ডিপেনডেন্ট (স্বাধীন)। তারা তফসিল ঘোষণা করেছে। এখানে ইন্টারফেয়ার (নাক গলানো) করার কোনো এখতিয়ার আমার নেই। তবে বুধবার আমাদের একাডেমিক কাউন্সিল আছে। সেখানে আমরা শীতকালীন ছুটি জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহে নিব। তাহলে নির্বাচন এবং কনভোকেশন হতে কোনো সমস্যা হবে না। যদিও ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২১ ডিসেম্বর থেকে শীতকালীন ছুটি শুরু হয়ে অফিস খুলবে ২৭ ডিসেম্বর এবং ক্লাস বন্ধ থাকবে ৩১  ডিসেম্বর পর্যন্ত।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad