মেয়ের বিয়ের আয়োজনের সামর্থ্য না থাকা অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে চারজন মেয়ের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে আসা আবেদনকারীদের কথা শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই সহায়তা দেন।
গণশুনানিতে মেয়ের ও বোনের বিয়ের খরচ জোগাতে না পারা একাধিক অভিভাবক সরাসরি জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চারজন অভিভাবককে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
বাঁশখালীর দিনমজুর নাজমুল হক বলেন, ‘ডিসি স্যার এত লোকের ভিড়ের মাঝেও আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আমার বোনের বিয়ের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।’
পূর্ব বাকলিয়ার কাঠমিস্ত্রি মো জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের জন্য অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছি, কিন্তু কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। ডিসি স্যার শুধু অর্থ সহায়তাই করেননি, আমার মেয়ের জন্য দোয়া করেছেন।’
কোতোয়ালির বাসিন্দা বুলবুলি দাশ লিখিত আবেদনে জানান, তার স্বামী মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সংসারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই মেয়ের বিয়ের খরচ তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। জেলা প্রশাসক তাকেও সহায়তা প্রদান করেন।
বাঁশখালীর পুঁইছড়ি এলাকার সেলুন কর্মী বিধান সুশীল অল্প আয়ে তিন মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। এক মেয়ের বিয়ের তারিখ ঠিক হলেও খরচের চিন্তায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। তার আবেদন শুনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহায়তা দেন। গণশুনানিতে শুধু বিয়ের আবেদনই নয়, সমাজের নানা সংকটের চিত্রও উঠে আসে।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, ‘আমাদের কথা শোনার কেউ নেই। এখানে এসে অন্তত একজন আমাদের কথা শুনেছেন।’
স্থানীয়দের মতে, জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ প্রশাসনকে মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে তুলে ধরছে, যেখানে একটি আবেদন নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।


