বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় লাইফলাইন ও আবাসিক প্রথম ধাপের গ্রাহকদের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিদ্যুৎ বিভাগের পুনর্বিবেচনার অনুরোধের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কমিশন নতুন আদেশ জারি করে আগের দাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার জারি করা এক আদেশে বিইআরসি জানিয়েছে, আবাসিক লাইফলাইন (শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট) এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের জন্য বুধবার পুনর্নির্ধারিত বর্ধিত মূল্যহার কার্যকর হবে না। এর পরিবর্তে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট ৪ দশমিক ৬৩ টাকা এবং প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য ৫ দশমিক ২৬ টাকার আগের মূল্যহারই বহাল থাকবে।
এর আগে, বুধবার কমিশন বিদ্যুতের খুচরা দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ বাড়ানোর আদেশ জারি করেছিল। ওই আদেশ অনুযায়ী লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম ৪ দশমিক ৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৩২ টাকা এবং প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য ৫ দশমিক ২৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ দশমিক ১৮ টাকা প্রতি ইউনিট নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি জুন মাসের বিল থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিইআরসির পুনর্নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পক্ষ থেকে প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য পাঠানো প্রস্তাবের সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি।
বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, এর ফলে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেত এবং তাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সে বিবেচনায় লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য পুনর্নির্ধারিত এই দাম সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে গত ৩ মে পিডিবির পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে দাম পুনর্বিবেচনার জন্য বিইআরসিকে অনুরোধ জানানো হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পরই কমিশন জানায়, পিডিবি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বর্ধিত মূল্য বাতিল করায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য আয় কমে যাবে। এই ঘাটতি এখন সরকারকে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে সমন্বয় করতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
বিইআরসি বলেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বুধবার ঘোষিত খুচরা বিদ্যুতের গড় মূল্যহার (ওয়েটেড অ্যাভারেজ) প্রতি ইউনিট ১০ দশমিক ৬৩ টাকা থেকে ২৩ পয়সা কমে ১০ দশমিক ৪০ টাকায় নেমে আসবে।
গত ২০ ও ২১ মে অনুষ্ঠিত গণশুনানির পর বিইআরসি ৩ জুন বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে। ওই সিদ্ধান্তে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প, কৃষি ও অন্যান্য প্রায় সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্যই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ঘোষণার একদিনের মধ্যেই কমিশনের এই অবস্থান পরিবর্তন বিদ্যুৎ খাতের দাম সমন্বয় প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


