বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন গবেষণা প্রকল্পসমূহের মধ্যবর্তী মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সাভারের বিএলআরআই প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই মূল্যায়ন সভায় রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়নে চলমান মোট ৬৫টি প্রকল্পের মধ্যমেয়াদী অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান, বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ ও প্রকল্প পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে ড. মো. জিল্লুর রহমান চলমান প্রকল্পসমূহের ক্ষেত্রভিত্তিক পরিসংখ্যান ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞ সদস্যরা গবেষণার সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে ফলাফলের গুণগত মান এবং খামারিদের জন্য সাশ্রয়ী ও লাভজনক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নতুন ভ্যাকসিন ও উন্নত জাতের পণ্য তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ক্ষেত্রভিত্তিক মূল্যায়নে অ্যানিমেল এন্ড পোল্ট্রি ব্রিডিং এন্ড জেনেটিকস বিষয়ের ১৮টি প্রকল্প মূল্যায়ন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামছুল আলম ভূঁঞা ও অধ্যাপক ড. মো. মুনির হোসেন। পুষ্টি ও খাদ্য সংক্রান্ত ১৪টি প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন বিএলআরআই-এর সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) ড. এ বি এম খালেদুজ্জামান।
এছাড়া রোগ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ১৩টি প্রকল্প মূল্যায়ন করেন সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গিয়াসউদ্দীন এবং বিএআরসি-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। বায়োটেকনোলজি ও জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক ১৫টি প্রকল্পের মূল্যায়নে ছিলেন সাবেক অধ্যাপক ড. মোঃ নূরুল ইসলাম এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন। সমাজ-অর্থনীতি ও ফার্মিং সিস্টেম বিষয়ক ৫টি প্রকল্প মূল্যায়ন করেন বিএআরসি-এর সদস্য পরিচালক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা এবং বাকৃবি অধ্যাপক ড. সাদিকা হক।
সভাপতির বক্তব্যে ড. শাকিলা ফারুক বলেন, প্রকল্পের গুণমান বজায় রেখে মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণার সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠে বিএলআরআই ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ প্রযুক্তি উপহার দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


