বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘জঁ মোনে মডিউল’ চালু খুবিতে

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘জঁ মোনে মডিউল’ চালু খুবিতে
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মর্যাদাপূর্ণ ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির আওতায় ‘জঁ মোনে মডিউল’ চালু হলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. আশিক উর রহমানের দাখিলকৃত ‘ইইউ গভর্ন্যান্স, গ্রীন ডিল অ্যান্ড ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট (ইইউগ্রীন-ক্লাইমআরবান)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির অধীনে জঁ মোনে মডিউল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মডিউলটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মো. আসলাম হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ মডিউলের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু ও উন্নয়ননীতি সম্পর্কে অবহিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত তাদের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করা। এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি অনন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জঁ মোনে মডিউল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সংযোগ, গবেষণা সহযোগিতা ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, এ মডিউলের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইউরোপীয় গবেষক ও শিক্ষাবিদদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ ও বৈশ্বিক সংযোগ সুদৃঢ় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তিনি শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের তাত্ত্বিক জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং নীতিনির্ধারণে পরামর্শক হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ মডিউল চালু হওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক নীতিকাঠামো সম্পর্কে ধারণা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক ও গবেষককে ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মডিউলটির সমন্বয়ক অধ্যাপক মো. আশিক উর রহমান। তিনি মডিউলের উদ্দেশ্য, একাডেমিক কাঠামো ও তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথম জঁ মোনে মডিউল চালুর সুযোগ পাওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক একাডেমিক অর্জন। আমাদের লক্ষ্য শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিষয়ে পাঠদান নয়; বরং ইউরোপের নীতি, অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী ধারণাকে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা। আমরা এ মডিউলকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্থায়ী আন্তবিষয়ক একাডেমিক উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইইউগ্রীন-ক্লাইমআরবান মডিউলের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শাসনব্যবস্থা, ইউরোপিয়ান গ্রিন ডিল, পরিবেশ ও জলবায়ুনীতি, টেকসই নগরায়ণ এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন বিষয়ে আন্তবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষভাবে ইউরোপীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজনের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রকল্পটির আওতায় তিন বছরে মোট ৪৮০ ঘণ্টার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কমপক্ষে ১২০ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি সেমিস্টারের শুরুতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি মডিউলটির আওতায় আন্তর্জাতিক অতিথি বক্তৃতা, বিশেষজ্ঞ সেমিনার, কর্মশালা, উদ্ভাবনী শিক্ষণ পদ্ধতি, সক্ষমতা উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক প্রকল্প, নীতিসংলাপ, গবেষণা, পলিসি ব্রিফ এবং জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

নেদারল্যান্ডসের উট্রেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব স্টুটগার্টের শিক্ষকদের একাডেমিক সম্পৃক্ততারও পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় নীতি ও গবেষণার অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের একটি কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা হবে।

আশিক উর রহমানের নেতৃত্বে মডিউলটির একাডেমিক কার্যক্রমে অবদান রাখবেন নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. নূরুন্নবী এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. নাসিফ আহসান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা নিজ নিজ একাডেমিক ক্ষেত্রের আলোকে মডিউলের সম্ভাব্য কার্যক্রম, কর্মপন্থা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারা পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, পাঠদান, শিক্ষার্থী গবেষণা, মূল্যায়ন ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, বিভাগীয় পরিচালক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জঁ মোনে মডিউল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির একটি বিশেষায়িত উদ্যোগ, যার মাধ্যমে বিশ্বের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও নীতিসংলাপ উৎসাহিত করা হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইইউগ্রীন-ক্লাইমআরবান মডিউল বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপীয় নীতি, সুশাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই নগর উন্নয়ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে ওঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ, আন্তবিষয়ক গবেষণা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad