বরগুনায় হামের প্রাদুর্ভাবে সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য এখন সংকটের মুখে। সঠিক গবেষণা আর কার্যকরি নজরদারি না থাকলে এই প্রাদুর্ভাবের বৃত্ত থেকে বের হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় এর মধ্যে ২০৭ জনের শরীরে হাম রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৭ জনের। সন্দেহের তালিকায় থাকা তিন শিশুর মৃত্যুর খবরে জনমনে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। জ্বর, সর্দি আর তীব্র কাশির সাথে শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
বামনা হাসপাতালের ডাক্তার সারা জানান, গত বছর ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় বিপর্যস্ত ছিলো উপকূলীয় এই জেলা । তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেঁকে বসেছে হামের প্রাদুর্ভাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরগুনাকে হামের হটস্পট ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। গত বছর ডেঙ্গু রোগে ১৫ জনের প্রাণ হারিয়েছিল। কিন্তু এ বছর আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে হাম। তিন থেকে চার মাস বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘বরগুনায় নেই কোনও পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরি। নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাতে হয় ঢাকায়, যার রিপোর্ট আসতে অনেক সময় পার হয়ে যায়। তবে এ মুহুর্তে সংক্রমণ কিছুটা কমছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাম সংক্রমণ রোধে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।’
এদিকে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পর টিকার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত হওয়ার কথা স্বীকার করে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


