ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত, টাকা লেনদেনের তথ্য উদঘাটন এবং ঘটনার বিষয়ে আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য এ রিমান্ড আবেদন করা হয়।
বৃহস্পতিবার উত্তরা পশ্চিম থানায় ২৪ আগস্ট দায়ের করা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দুটি চেক উদ্ধারের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে এ আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মামলার দুই নম্বর আসামি তার কলেজজীবনের বন্ধু। ওই আসামি নিজেকে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিচয় দিয়ে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে ফ্ল্যাট বিক্রির কথা জানান।
এই আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার ৫৮০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাদীকে বন্ধুত্বের সুবাদে ৭৭ লাখ টাকায় দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে ফ্ল্যাট বুকিং ও বিভিন্ন কিস্তিতে বাদীর কাছ থেকে মোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর বিপরীতে টাকার রসিদও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ভবনের কাজ শেষ পর্যায়ে এলে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বাদী ওই টাকা নগদে দেওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো রসিদ না দিয়ে নিজের ব্যাংক হিসাবের দুটি চেক দেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এরপর ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানা শুরু হলে বাদী টাকা ফেরত চান। তখন তাকে আরেক আসামির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, ওই সময় মামলার এক নম্বর আসামি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন এবং ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে দুই নম্বর আসামির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানান। তার কাছে নগদ টাকা নেই দাবি করে একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
এরপর ওই আসামির দেওয়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকের হিসাবে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৭ লাখ এক হাজার টাকা এবং বিকাশ নম্বরে আরও তিন লাখ টাকা পাঠানো হয়। পাশাপাশি নগদে ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয় বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, এভাবে দুই আসামি মিলে বাদীর কাছ থেকে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নেন। পরে বাদী জানতে পারেন, তাকে যে ফ্ল্যাটটি দেওয়ার কথা ছিল, সেটি অন্য এক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে। এ
মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস এবং তৌহিদুল ইসলাম তাওহিদ বর্তমানে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। উত্তরা পশ্চিম থানার আরেক মামলায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হরিদাসকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। বিশেষ করে তার হেফাজতে থাকা দুটি চেক কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি তথ্য দিতে পারবেন বলে পুলিশ মনে করছে।
এ ছাড়া তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে মামলার পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চেক দুটি উদ্ধারের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


