ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজউকের ১০ কাঠার প্লট নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বুধবার তাকে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে সাড়ে ১০টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মোনাইম নবী শাহিন তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতির জামিনের বিরোধিতা করেন আইনজীবী হাফিজুর রহমান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের প্লট আত্মসাৎ মামলায় গত ৬ আগস্ট ওই মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে খায়রুল হকসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, সদস্য (অর্থ ও এস্টেট) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সদস্য মো. আবু বক্কার সিকদার, সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভুইয়া, সাবেক যুগ্ম সচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজধানীর ২ নম্বর শিক্ষা সম্প্রসারণ সড়কে (নায়েম রোড) পৌনে ১৮ কাঠা জমির ওপর ৬ তলা পৈতৃক বাড়ি রয়েছে এবিএম খায়রুল হকের। কিন্তু তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে হলফনামা দাখিল করে রাজউকের ১০ কাঠা প্লট নেন।
এর মাধ্যমে তিনি ‘দ্য ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস) রুলস, ১৯৬৯’ এর বিধি ১৩ লঙ্ঘন করেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে আরও বলা হয়, রাজউক কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সুদ মওকুফের কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও প্লট বরাদ্দের জন্য সাময়িক বরাদ্দপত্রে শর্ত ভঙ্গ করেন এবিএম খায়রুল হক। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ কিস্তির টাকা জমা না দিয়ে অবসরের পর অর্থাৎ বরাদ্দের ৫ বছর পর সুদবিহীনভাবে টাকা জমা দেন। এ ক্ষেত্রে রাজউকের প্রচলিত নীতিমালা ভঙ্গ করে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে সুদবাবদ চার লাখ ৭৪ হাজার ২৪০ টাকা পরিশোধ না করে সরকারের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাৎ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
এর আগে ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় ওইদিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৩০ জুলাই বিচারক হিসেবে দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলকভাবে বেআইনি রায় দেওয়ার অভিযোগে শাহবাগ থানার মামলায় তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে।


