প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাপান সফরের পর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না।’
শনিবার সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ামুখী ১১-দলীয় জোটের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাপান সফর প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কী জন্য গিয়েছিলেন, কী করে এসেছেন, জাতির সামনে তাকে এটা খোলাসা করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তাদের পরিণতি তারা এখন ভোগ করছে। তাদের তো দিদি-দাদা ছিল, আপনাদের কে আছে?’
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করায় বাকি ছয় দফা দাবির জন্ম হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, একটি দফা বাস্তবায়ন হলে চাঁদাবাজ, দখলদার, দুর্নীতিবাজ ও মাদকসম্রাটরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি জাতির সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষাকে উপহাস করেছে।
নভেম্বরের ৯ তারিখ সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ ঘোষণা এলে আপাতত বিরোধী দলের আর কোনো কর্মসূচি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও জানান শফিকুর রহমান।
সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চটি শুরু হয়। সাত দফা দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ১১ দলীয় জোট। দাবিগুলো হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, আপনারা কিন্তু ভুল করে ফ্যাসিবাদীদের পথে আবার হাঁটতে শুরু করেছেন।’
সরকার প্রধান বিচারপতি, সাংবিধানিক পদ, সরকারি কর্ম কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় লোক নিয়োগ দিতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদে সমাধানযোগ্য বিষয় রাজপথে ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করলে সরকারকে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ও অধিবেশন না ডাকাকেও জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত ১১ দলের এই সংগ্রাম চলবেই চলবে।’


