তাহসিফ সাউরির মৃত্যুতে বাবার মামলা

তাহসিফ সাউরির মৃত্যুতে বাবার মামলা
তাহসিফ ও তার বাবা। ছবি কোলাজ: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে।

শনিবার সকালে উত্তরা উত্তরখান থানায় মামলা করেন তিনি।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. রেজাউল করিম বলেন, তাহসিফকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে গুম করার অভিযোগে বাদী মামলা করেছেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনার রাতে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া পরিচিত ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছ থেকে নিয়ে গেছে নৌ পুলিশ।

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার ১২ টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হবে এবং সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এর আগে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় মামলার বিষয়ে শুক্রবার তার বাবা বলেছিলেন, ‘পারিবারিকভাবে আমরা এটা আলোচনা করব, এরপর সিদ্ধান্ত নেব।’

মামলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকার নিশ্চয় দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবে এবং অত্যন্ত আন্তরিক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আরও পড়ুন

সে পরিপ্রেক্ষিতে নৌ-পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম জানিয়েছিলেন, পরিবার মামলা না করলে পুলিশ নিজেই মামলা করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

দীপের বক্তব্যেও একাধিক অসংগতি পেয়েছেন কর্মকর্তারা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেল উদ্ধার হলেও তাহসিফের শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে দীপ যে এলাকার কথা জানিয়েছেন, সেখানকার বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার রাতে কী ঘটেছিল, কেন দীপ একা ফিরে এসেছিলেন, এসব বিষয়ে একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন তিনি। ঘটনাস্থলে পুলিশের মতো দেখতে দুইজনকে দেখে পালানোর দাবি, নিখোঁজ মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং মৃত্যুর আগে শেষ মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার হলেও সেটি কীভাবে ঘটনাস্থলের কাছে এল, কারা তাকে ও তাহসিফকে ধাওয়া করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে তাহসিফ তুরাগ নদে গেলেন, সেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, প্রতিটি তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। বুধবার বিকালে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহের সঙ্গে থাকা হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাহসিফ সাউরির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাহসিফ সাউরিকে দাফন করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad