সাভারের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মুশা গ্রেপ্তার

সাভারের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মুশা গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার মোশাররফ হোসেন মুশা। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

সাভারের হেমায়েতপুরে একাধিক মামলার আসামি ও ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মোশাররফ হোসেন মুশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপু রাড়ীকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় তিনি প্রধান আসামি।

ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস পর দারুস সালাম থানা পুলিশ শুক্রবার ভোরে বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। মুশা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

এসব তথ্য জানিয়েছেন অপু রাড়ী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোস্তফা হোসেন। তিনি জানান, আসামি মুশাকে আদালতের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞেসাবাদ করা হবে।

মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, গত ১৪ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে দারুস সালাম থানার গাবতলী এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে অপু রাড়ীকে ‘ছিনতাইকারী’ ট্যাগ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন মুশা ও তার সঙ্গীরা।

আরও পড়ুন

পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তা থেকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান স্বজনরা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৭ জুলাই তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে  একইদিন দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লালমাটিয়ার বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ জুলাই সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে অপু রাড়ীর মৃত্যু হয়। 
এ ঘটনায় অপুর বড় ভাই সোহান রাড়ী বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি হিসেবে মুশার নাম উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে হেমায়েতপুরে ব্যবসায়ী রমজানকে গুলি করে চাঁদার দাবির ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মুশা। এ ছাড়া সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

এক সময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার শাখার সভাপতি ছিলেন মুশা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়েন তিনি। পরে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন মুশা।

তার বিরুদ্ধে হেমায়েতপুর এলাকায় অস্ত্রের মহড়া, দখল, গুলি করে চাঁদা আদায় করা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। মুশা বাহিনীর বিরুদ্ধে হেমায়েতপুর গার্মেন্টস-ঝুট, বাসস্ট্যান্ড, ফুতপাতসহ জয়নাবাড়ী সড়ক ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসাকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণেরও অভিযোগ রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad