বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি সাঁতার জানতেন। পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের ওপর বড় কোর্সও করেছিলেন তিনি। সেই কোর্সের সনদও ছিল। তাই স্থানীয় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া ধাওয়ার মুখে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেওয়ার তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। তার দাবি, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার পিবিআইকে দীপের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তাহসিফের বাবা।
তিনি বলেন, ‘কেন তাহসিফকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’
ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সেই দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ পিবিআইকে জানান, কিছু লোকের ধাওয়ার মুখে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। আর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় হেফাজতে নেওয়া দীপ পিবিআইকে বলেন, সেদিন তারা ঘটনাস্থলে কথা বলছিলেন। এ সময় কিছু লোক তাদের ধাওয়া করে। তখন তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন এবং তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।
তুরাগ নদের যে স্থান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তার কাছেই নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই করছে পিবিআই।
পিবিআই জানায়, দীপকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ একই তথ্য দিয়েছেন। তার কাছ থেকে পাওয়া এসব তথ্যসহ অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিষয়টি জানা যাবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।


