বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যে পাওয়া গেছে অসংগতি। এদিকে দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছে পিবিআই।
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে দীপ দাবি করেছিলেন, রাতে একসঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া শেষে দুজন আলাদা পথে চলে যান। কিন্তু পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তাদের ধাওয়া করা হলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি পালিয়ে আসেন। একই ঘটনার শেষ মুহূর্ত নিয়ে দুই ধরনের বর্ণনায় উঠেছে প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে তাহসিফের সঙ্গে সেদিন দেখা হওয়ার বিষয়ে দীপ জানান, তারা প্রথমে একটি মোটরসাইকেলের ওয়ার্কশপে যান। সেখান থেকে পরে রুয়াপ কমপ্লেক্সে গিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খান। খাবার শেষে দুজন বের হয়ে গেলে তিনি নিজের একটি কাজে চলে যান এবং দীপ বাসায় ফিরে আসেন।
দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের সঙ্গে এর আগেও তার দেখা হয়েছে এবং তারা একসঙ্গে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গিয়েছেন। তবে সেদিন ঠিক কতক্ষণ তারা একসঙ্গে ছিলেন, তা নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা একসঙ্গে ছিলেন বলে জানান তিনি।
তাহসিফের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের ঘটনাগুলো নিয়ে কথা বলতে তার বাসার সামনে আসার অনুরোধ জানানো হলে দীপ বলেন, তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বাসায় আছেন। বাবা-মায়ের সম্মতি ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলতে বাইরে আসতে পারবেন না।
তবে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পিবিআই কর্মকর্তারা ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান , ‘দীপ বলেছে, আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এসময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়। আর আমি পালিয়ে আসি।’
তিনি আরও বলেন, দীপের দেওয়া বক্তব্যসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দীপের সব তথ্য যাছাই-বাছাই করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল তাহসিফের কিনা তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। দীপ বলছে তাদের পুলিশের পোশাক পরা কেউ ধাওয়া দিয়েছে, কে ধাওয়া দিলো তা যাছাই বাছাই করা হচ্ছে।
তারা মাদকাসক্ত ছিলো কি না তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, দীপ রাত আড়াইটার পরে বাসায় গিয়েছে। এর আগে তারা কোথায় কোথায় ছিল খোঁজখবর করা হচ্ছে। তারা দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে গিয়েছিল। দীপ একটি নিয়ে চলে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে দীপ ছিল টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়।
বেশ কিছু সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে তুরাগ নদীর যে স্থান থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল, তার কাছাকাছি এলাকা মাজার বস্তি থেকে শুক্রবার সকালে নাম্বার প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ বিষয়ে আবু ইউসুফ জানান ,উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নৌ পুলিশকে তদন্তে সহায়তা করছে পিবিআই।


