নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল হত্যাকণ্ডের ঘটনায় এমপির ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে রিমান্ডে নেওয়ায় পর আরো দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ধারাবাড়িষা গ্রামের আলামিন হোসেন (২৬) ও আনিসুর রহমান (২৫)। বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
হত্যা মামলায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিবিড়ভাবে দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম। এ সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় ১৯ অক্টোবর থানায় মামলা করেন শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম।
শাকিলের পরিবারিক সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মারা যান। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই দিন রাত ১০ টার দিকে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি। একইসঙ্গে মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার শাকিলের জানাজা শেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের শপিংমলে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।
এসব ঘটনায় জনরোষে পড়েন এমপি আব্দুল আজিজ। বুধবার সকাল থেকে এমপি আব্দুল আজিজের অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা বিএনপি।
এমপি আবদুল আজিজ বলেন, তার এবং তার সন্তানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সবই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।


