নওগাঁয় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্রের ৪ সদস্যসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার

নওগাঁয় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্রের ৪ সদস্যসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

নওগাঁ পুলিশের অভিযানে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্রের চার সদস্য ও চোরাই সোনা কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া সোনার গহনার একটি অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। রোববার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গাইবান্ধা জেলার আব্দুল হাই, এরশাদ আলী ও বাবলু, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মো. কালাম, নওগাঁর মো. জাহাঙ্গীর।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর থানা এলাকায় রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করে বয়স্ক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে দুটি পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। প্রচিলত ভাবে এই রাসায়নিক ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ নামে পরিচিত।

প্রথম ঘটনায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় নওগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে ফাতেমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি অচেতন করে। পরে তাকে একটি রিকশায় তুলে নিয়ে গলায় থাকা সোনার চেইন, কানের দুল ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর ডিগ্রীর মোড়সংলগ্ন ময়লা ফেলার স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন

একই দিন আরেক ঘটনায়, ছেলের বাড়িতে যাওয়ার পথে নওগাঁর ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে সোনার বার দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে চক্রটি। পরে রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে তাদের সম্মোহিত করে প্রায় ছয় আনা ওজনের একজোড়া সোনার কানের দুল ছিনিয়ে নেয়।

এ দুটি ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে ২৭ জুন রাতে ওসি মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে নওগাঁ শহরের নয়টি আবাসিক হোটেল ও বিভিন্ন স্থানে একযোগে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এবং চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, আরও দুই-তিনজন সহযোগীকে নিয়ে তারা দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। সোনার বার দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করে বৃদ্ধ দম্পতির সোনার গহনা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, চুরি হওয়া সোনার কানের দুল নওগাঁ স্বর্ণপট্টির মুহিব জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করা হয়। এরশাদ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা জাহাঙ্গীরকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চোরাই স্বর্ণ কেনার কথা স্বীকার করেন এবং জানান, কানের দুল গলিয়ে ফেলা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গলানো অবস্থায় চার আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গীর এর আগেও নওগাঁ স্বর্ণপট্টিতে চোরাই সোনা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা আরও জানান, চুরি হওয়া বাকি সোনার গহনা ও অর্থ তাদের পলাতক সহযোগীদের কাছে রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad