ভায়াগ্রা ও সোনাসহ কোটি টাকার মালামাল জব্দ, নতুন চক্রের সন্ধান

ভায়াগ্রা ও সোনাসহ কোটি টাকার মালামাল জব্দ, নতুন চক্রের সন্ধান
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বিমানবন্দর, ডাক ও রেলপথ ব্যবহার করে চোরাচালানের নতুন কৌশল ও রুটের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

গত মঙ্গল ও বুধবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে ফরেন পোস্ট অফিসে ধারাবাহিক অভিযানে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ওষুধ, আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, বিদেশি সিগারেট, সোনার গহনা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে।

এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা। বৃহস্পতিবার এনবিআর এসব তথ্য জানায়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বুধবার ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের (ইটি৬৮০) যাত্রী জাহাঙ্গীরের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া, গত মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম এবং ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পণ্যগুলো আকাশপথে দেশে আনার পর বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুরের আরএমএস সেন্টার হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।

আরও পড়ুন

সংস্থাটির দাবি, এ ঘটনায় বিমানবন্দর, ডাক পরিবহন ও রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য সরানোর একটি নতুন চোরাচালান কৌশলের তথ্য পাওয়া গেছে।

এনবিআর জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ১০০ গ্রাম সোনার গহনা, ল্যাপটপ, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ এফইসহ মোবাইল ফোন, ২৮৮ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ৪৬ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১৭ লিটার মদ জব্দ করা হয়।

এর পর দিন বুধবার থাই এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ারসহ বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ ও পরিত্যক্ত কার্টন থেকে আরও ২৪৩ কার্টন সিগারেট, ৩৮ কেজি কসমেটিকস এবং ১৮ দশমিক ১৮ কেজি গৌরি ক্রিম উদ্ধার করা হয়।

এনবিআরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দুদিনের অভিযানে মোট ৫৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, বিমানবন্দর থেকে ৬৪ দশমিক ১৮ কেজি নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৬৮ কেজি অন্যান্য কসমেটিকস, ৫৫ দশমিক ৮ কেজি ওষুধ, ১০০ গ্রাম সোনার গহনা, ৩২টি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১৭ লিটার মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া কমলাপুর থেকে ৭ হাজার ৭৮৭ পিস গৌরি ক্রিম জব্দ করা হয়।

সংস্থাটি জানায়, এসব অভিযানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ পণ্য পরিবহন প্রতিরোধের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত ওষুধের বাণিজ্য রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইনসুলিনের মতো তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধ যথাযথ সংরক্ষণব্যবস্থা ছাড়া পরিবহন করা হলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad