ত্রিশালের সেই ইউএনওকে প্রত্যাহার

ত্রিশালের সেই ইউএনওকে প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এক ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় ও লাঠিপেটার অভিযোগ ওঠার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর আগে, গত বুধবার বেলা ২টার দিকে ত্রিশালের কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, আনসার ও র‍্যাব সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বালু বিক্রির ওই পয়েন্টে উপস্থিত হন ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। সেখানে গিয়ে তিনি ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। তখন ইউএনও নিজের পরিচয় দেন।

কথাবার্তার একপর্যায়ে সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন ইউএনও। ফুটেজে দেখা যায়, প্রথম থাপ্পড়টি তিনি বাঁ হাতে এবং দ্বিতীয়টি ডান হাতে দেন।

এরপর এক র‍্যাব সদস্য সারোয়ারকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নেন। পরে তিনি সারোয়ার জাহানকে লাঠি দিয়ে চারবার আঘাত করেন বলে ফুটেজে দেখা যায়।

আরও পড়ুন

এ সময় ত্রিশালের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন।

ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার প্রজ্ঞাপন

মারধরের শিকার সারোয়ার জাহান ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।

ইজারাদার পক্ষের দাবি, মারধরের পর সারোয়ার জাহানকে র‍্যাবের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ধলা এলাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‘সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ত্রিশালের কালীরবাজার এলাকায় বালু বিক্রির ইজারা নিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বালুমহালটি মূলত ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নিয়ন্ত্রণাধীন।

সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ জানান, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে তারা ঘাটটি ইজারা নিয়েছেন। পাঁচ-ছয় মাস আগে ইজারা পেলেও রাস্তা না থাকায় এতদিন বালু পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ৮-১০ দিন আগে তারা বালু সরানোর কাজ শুরু করেন এবং কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির কাউন্টার চালু করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর ইউএনওর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও তিনি সাক্ষাৎ করতে পারেননি।

আরও পড়ুন>>>

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ইউএনওর ‘মাস্তানি’, কী ব্যবস্থা নেবেন ডিসি?

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad