চায়ের আড্ডায় তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা, মতামত ও বাংলাদেশ নিয়ে ভাবনার কথা শুনেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান।
সোমবার বিকালে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস খেলার মাঠে আয়োজিত এই আড্ডায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ছয়টি গোল টেবিলে বসে অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করেন। জাইমা রহমান প্রতিটি টেবিলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে কথা বলেন ও তাদের বক্তব্য শোনেন। বিকাল সোয়া ৩টার দিকে শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে আড্ডা।
তরুণ-তরুণীদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন জানার উদ্দেশ্যে ব্যতিক্রমধর্মী এই ‘চায়ের আড্ডা’ আয়োজন করে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কনটেন্ট জেনারেশন টিম। আলোচনায় এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, অনলাইন ও পাবলিক স্পেসে নারীরা নানা ধরনের হেনস্তার শিকার হন। নারীদের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে জাইমা রহমান বলেন, নারীদের নিরাপত্তা তাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার। দেশের প্রায় ৫১ শতাংশ মানুষ নারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও কথা বলার অধিকার নিশ্চিত না হলে সমাজ এগোবে না। নারীদের বাকস্বাধীনতা, ভিন্নমত প্রকাশ ও উন্নয়নে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা শহরের বাস্তবতা জানতে চাইলে এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ভেতরে যান চলাচল শৃঙ্খলিত থাকলেও বাইরে এলেই বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরলে দেশ এগোচ্ছে–এমন অনুভূতি তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাইমা রহমান বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় এই বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিনের। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তারা একটি নির্মল, যানজটমুক্ত ঢাকা চান—যেখানে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়া যাবে। জবাবে জাইমা রহমান বলেন, গরমকালে এসির ব্যবহার বাড়লে বায়ুদূষণ আরও তীব্র হয়। গাছপালা কমে গেছে, খাল-বিল খনন হয়নি। খাল সংস্কার, পার্ক উন্নয়ন ও শহর পরিষ্কার রাখা জরুরি। একই সঙ্গে দূষণ রোধের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। ফ্লাইওভার নির্মাণ হলেও পথচারীদের জন্য নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় রাতের বেলায় অনেক জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা হিসেবে দেখা হয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেগলেক্টেড হন। জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও নীতিনির্ধারণে তাদের অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জাইমা রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মই এই দূরত্ব কমাতে পারে এবং সবাইকে সমানভাবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান–এ প্রশ্নে জাইমা বলেন, এটি কঠিন প্রশ্ন। শৈশবে দেশ ছাড়লেও দেশের খোঁজ রাখতেন তিনি। তরুণদের মধ্যে থাকা আইডিয়া ও করার আগ্রহ তাকে আশাবাদী করে তোলে বলে জানান তিনি। তিনি চান, বাংলাদেশ সবার জন্য হোক–যেখানে মানুষ নিজ নিজ মত ও আদর্শ স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন থাকবে।
আড্ডায় তিনি কম কথা বলেন, বেশি শোনেন। আলোচনায় প্রাণী কল্যাণসহ নানা সামাজিক বিষয়ও উঠে আসে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ভাবনা শোনার পর তিনি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে না বসে উপস্থিত তরুণদের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে কথা বলেন জাইমা রহমান। একই সঙ্গে চা, চটপটি, জিলাপি ও ঝালমুড়ি উপভোগ করেন তিনি। আড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


