তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, তিন দিনের রিমান্ড

তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, তিন দিনের রিমান্ড
ধর্ষণ ও হত্যার শিকার তনু। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

দীর্ঘ দশ বছরের প্রতীক্ষা আর বিচারহীনতার গ্লানি মুছে অবশেষে চাঞ্চল্যকর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

এই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাবেক সেনাসদস্য সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার বিকালে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

পিবিআই ঢাকার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম হাফিজুর রহমানকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা সদর কগনিজেন্স কোর্ট ১-এ হাজির করেন। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, তনু হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮০টি শুনানির তারিখ অতিবাহিত হয়েছে। ৪টি সংস্থার ৭ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে মামলাটি পরিচালনা করেছেন। অবশেষে ১০ বছর পর এই প্রথম কাউকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম তিন জন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস ম্যাচ করার অনুমতি চেয়েছিলেন। তারা হলেন সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান (বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত), সৈনিক শাহিনুল আলম (আবেদনে জাহাঙ্গীর আলম হিসেবেও উল্লেখ রয়েছে)।

তনুর পোশাকে পাওয়া তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই সন্দেহভাজনদের প্রোফাইল মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়াটিই মামলার তদন্তে বড় মোড় নিয়ে আসে।

আরও পড়ুন

কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক আবেদনটি পর্যালোচনার পর আজ তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে পিবিআই এই গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।

বুধবার বিকাল ৫টার দিকে তনুর বাবা ইয়ার আহম্মেদ, মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন কুমিল্লা আদালতে হাজির হন। আদালতে উপস্থিত হয়ে তনুর বাবা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তারা আদালতে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন বলেও জানা গেছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন জঙ্গল থেকে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ, এরপর ডিবি এবং দীর্ঘসময় সিআইডি তদন্ত করলেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। ২০২০ সালে মামলার দায়িত্ব পায় পিবিআই।

দুই দফা ময়নাতদন্ত করা হলেও তনুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যা বর্তমান তদন্তের মূল ভিত্তি।

কুমিল্লা আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মামুনুর রশিদ জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং ডিএনএ পরীক্ষার অগ্রগতির ভিত্তিতেই আইনগত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় তনুর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পুনরায় বিচারের আশা সঞ্চার হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর