দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ (Paypal) চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়া এবং উচ্চপ্রযুক্তিতে কয়েক হাজার তরুণকে প্রশিক্ষিত করার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বিভিন্ন সংস্থা/দপ্তর তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানাবিধ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মাধ্যমে পাঁচ বছরে এক হাজার জনকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে। এই সময়ে দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সাত হাজার ৫০০ জন ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০২৬ সালে দুই হাজার ৪০০ জনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং (এমএল) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো উচ্চপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে ৮৩টি সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী ১ বছরে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০টি ব্যাচে প্রায় ১০০০ জন আন্ডার গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েটদের আইটিইই (ইনফরমেশন টেকনোলজি ইন্জিনিয়ারস এক্সামিনেশন) প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। বিসিসির মাধ্যমে পাঁচ হাজার ২০ জন চাকরিপ্রার্থী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের এআই, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, আকামনা পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি বিষয়ে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণসহ এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ জন নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ডব্লিউআইএফআই (ওম্যান ইন ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ) বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাকরির ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইটিইই প্রশিক্ষণের আওতায় এপ্রিল-২০২৬ সেশনে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ জন শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। ৪০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ২০ জন নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ডব্লিউআইএফআই প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।


