আওয়ামী লীগ সমর্থকরা প্রার্থী হতে না পারার মধ্যে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রথম দিন ভোটারদের খুব বেশি আগ্রহ দেখা যায়নি।
দেশের সবচেয়ে বড় এই আইনজীবী সমিতির ২১ হাজার ৭৩১ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম দিন বুধবার রায় দিয়েছেন ২ হাজার ৭৫৯ জন, শতকরা হিসাবে যা ১২ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
সকাল ৯টায় থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ ভোট নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারও একই সময়ে নেওয়া হবে ভোট।
প্রথম দিনের ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বোরহান উদ্দিন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সকালে বৃষ্টির কারণে সামান্য কষ্ট হয়েছে ভোটারদের। কোনো প্রার্থী বা প্যানেলের কোনো অভিযোগ আসেনি। আগামীকাল কাস্টিং বাড়বে।’
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের ছায়া আছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এবার প্যানেল দিতে পারেননি। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের প্যানেল পরস্পরের মোকাবিলা করছে।
বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ, যারা লড়ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (নীল প্যানেল) ব্যানারে। তাদের সঙ্গে লড়াই হচ্ছে জামায়াত সমর্থকদের সঙ্গে জোট করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থক আইনজীবীরা, যারা লড়ছে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের (সবুজ প্যানেলে) ব্যানারে।
কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। দুই প্যানেলের ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ও স্বতন্ত্র ৯ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে লড়াই করছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়। নির্বাচন কমিশনেও দলটির নিবন্ধন স্থগিত হয়। এ কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি।
তবে আইনজীবীদের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হয় না। এ কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের কোনো প্যানেলে অংশ নেওয়ার আইনি বিধিনিষেধ নেই। তবে আওয়ামী লীগ অনুসারীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীও হতে পারেননি মনোনয়ন ফরম না দেওয়ায়।
বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কামাল খান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে। আশা করি আগামীকাল উপস্থিতি বাড়বে।’
কোনো ভোট কারচুপির অভিযোগ পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।’
জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেলের সদস্য প্রার্থী জহিরুল ইসলামও বলেন, ‘সুষ্ঠভাবেই ভোট হয়েছে। কোনো ঝামেলা হয়নি।’
আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, ‘এই “পাতানো নির্বাচন” নিয়ে আমাদের আগ্রহ নেই। এ কারণে আইনজীবীরা ভোট দিতে যাচ্ছে না। অনেকে মবের ভয়ে ভোট দিতে আসছে না।’
২০২৪-২৫ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সবশেষ নির্বাচনে ২৩ পদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১ পদে জয় পায় আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা।
গণঅভ্যুত্থানের পর বিজয়ীরা আর আদালতে আসতে পারছেন না। তাদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোটের যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তারা দায়িত্ব নিয়ে সমিতি পরিচালনা করছেন।


