জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটাল এনার্জির কাছ থেকে ৯ মাসে ১৮টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো কিনবে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৮তম সভায় এ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে টোটাল এনার্জির কাছ থেকে এলএনজি কেনা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুটি করে এলএনজি কার্গো সরবরাহ করবে টোটাল এনার্জি। নয় মাসে মোট ১৮টি কার্গো পাওয়া যাবে। দুই পক্ষের সম্মতিতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত কার্গো কেনা যাবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। বিভাগটি জানায়, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ায় দেশের জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি কেনা প্রয়োজন।
দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমছে, চাহিদা বাড়ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম চালাতে আমদানি করা এলএনজির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বাড়ছে।
একই সভায় আরও দুটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর একটি দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বিদ্যমান অভিবাসন ব্যবস্থায় পাঁচটি নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম (এপিআইএস), প্যাসেঞ্জার নেম রেকর্ড (পিএনআর), ই-ভিসা, ই-টিএ ও সার্বভৌম ডেটা অ্যানালিটিকস প্ল্যাটফর্ম।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনায় সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ), ২০০৬-এর ৬৮(২) ধারায় সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে ভিন্ন ক্রয় পদ্ধতি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কমিটি স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের মাধ্যমে পৌর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এতে বন্দরনগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও উন্নত হবে।


