মোবাইল অপারেটর ও টেলিযোগাযোগ বা টেলিকম খাতের জন্য নতুন বাজেটে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একইসঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রতিটি সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতে আগামী অর্থবছরে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে সরকার বলে বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে ফিন্যান্স বিলে প্রতিটি সিম বা ই-সিমের সরবরাহ মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
তা ছাড়া মোবাইল ইন্টারনেটের ডেটার ওপর বিদ্যমান কর কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কসহ টেলিকম খাতে মোট করের হার এখনো প্রায় ৫০ শতাংশে রয়ে গেছে।
সরকার সিম কর প্রত্যাহারকে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করলেও বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তি মানতে নারাজ।
বিডিজবস-এর প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর মনে করেন, সিম কর প্রত্যাহার বা উৎসে কর কমানো–কোনো সুবিধাই সাধারণ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে না, মোবাইল অপারেটররাই এর সুফল ভোগ করবে।
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে তার পর্যবেক্ষণ আরও স্পষ্ট। বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের হাতে ইতিমধ্যে একাধিক সিম রয়েছে। ফলে নতুন সিম সস্তা হলে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়বে না, বরং অনলাইন জুয়া ও সাইবার ক্রাইমে ব্যবহৃত সিমের সংখ্যাই বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে সবার একটা, দুটো, তিনটা সিম আছে। আরও বেশি সিম দরকার কেন? ডিজিটাল অ্যাডাপশন সিম বাড়ালে হবে না, বরং যে সিম আছে সেটার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করাটাই সম্ভব করতে হবে।’
তার মতে, এই বাজেটে আসল কাজটাই হয়নি–মোবাইল ইন্টারনেটের ডেটার খরচ কমানো। ডেটার দাম কমলে মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার আরও বাড়ত বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে টেলিকম খাতে করের হার অনেক বেশি। তিনি যোগ করেন, ‘ইন্টারনেটের ডেটার দাম কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এখনো বহাল। ফলে ইন্টারনেটের দাম কমার কোনো সম্ভাবনাই নেই।’


