ঝিনাইদহে কুকুরের কামড়ে আহত ২০

ঝিনাইদহে কুকুরের কামড়ে আহত ২০
ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ ‘পাগলা’ কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

রোববার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে জানা যায়, আহতদের মধ্যে ইবির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী বসাক ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শাহিনুর রহমানও ছিলেন। তাদের সবাইকে ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হামদহ মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা এনামুল কবীর দিপু বলেন, ‘বিকালে আমাদের এলাকায় একটি পথচারীকে কুকুর কামড়ে দেয়। এরপর ওই কুকুরটি বিভিন্ন পথচারী, এমনকি বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশুদেরও কামড়েছে।’

কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহরের বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে অনেক দিন ধরে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু হামদহ মোল্লাপাড়াই নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে পাগলা কুকুর কামড় দিয়ে মানুষকে আহত করেছে। সন্ধ্যায় সরকারি বালক বিদ্যালয়ের সামনে এক শিশুকে বাঁচাতে গেলে এক যুবককে কামড়ে দেয় কুকুর।

আরও পড়ুন

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানান, অফিস শেষে গ্যারেজ থেকে মোটরসাইকেল বের করার সময় একটি কুকুর তাকে কামড়ে দেয়।

ইবির আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী বসাক জানান, ঝিনাইদহ শহর থেকে ফিরে কাঠপট্টি এলাকায় হঠাৎ একটি কুকুর এসে তার ডান হাতে কামড় দেয়। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছোয়া ইসরাইল বলেন, ‘কুকুরে কামড়ানো রোগীদের ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে।’

সবার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত হলেও তাদের পরবর্তী ফলোআপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়েক বছর আগে কুকুরকে বন্যপ্রাণী ঘোষণা করে কুকুর নিধনে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে নিধন না হওয়ায় ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে।

ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় জানান, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর ধরার পর ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। করোনা মহামারীর সময় থেকেই সেই প্রকল্প বন্ধ রয়েছে।

পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ার বিষয়ে দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলে কীভাবে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা দেখা হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad