শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের পক্ষে মামলা পরিচালনায় বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদনের ওপর বুধবার আদেশ দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
মঙ্গলবার আবেদনটির ওপর শুনানি শেষে বুধবার আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহার।
এ মামলায় জিয়াউল আহসানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনায় সম্মতি জানান ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিভেন কে কেসি। ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মামলাটি বর্তমানে বিচারিক কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এতে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে মামলাটি রায়ের দিকে এগোবে। গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।
মামলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসান কীভাবে ‘সিরিয়াল কিলার’ হয়ে ওঠেন, তার বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। র্যাবের কর্মকর্তারা কীভাবে ধীরে ধীরে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, সাক্ষীরা সে বিষয়েও বর্ণনা দিয়েছেন বলে প্রসিকিউশনের ভাষ্য।
১০৪ জনকে হত্যার অভিযোগ
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসানের সরাসরি ভূমিকা ছিল, এমন অভিযোগে মামলাটি করা হয়।
গত ১৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে ১০৪ জনকে হত্যার অভিযোগে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন। তার নির্দেশ ও অনুমোদনে র্যাব সদস্যরা এসব অপরাধে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
র্যাবে পদায়ন থেকে মেজর জেনারেল
প্রসিকিউশন সূত্রের দাবি, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে র্যাবে পদায়নের পর জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে আর সেনাবাহিনীতে ফিরতে হয়নি। এ সময়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, প্রয়োজনীয় কোর্স ও প্রশিক্ষণ এবং কোনো ব্যাটালিয়ন বা ব্রিগেড কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই জিয়াউল আহসান মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। সেনাবাহিনীর পেশাদার ইতিহাসে এমন পদোন্নতি নজিরবিহীন বলেও দাবি করেছে প্রসিকিউশন।


